রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে চার বছরের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্নে শেষ করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম আশিকুর রহমান। তিনি প্রক্সির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে ইতোমধ্যে স্নাতক (অনার্স) চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং তার ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিলেও বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে না আসা এবং অভিযোগ ওঠার দেড় মাস পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষার সময় ব্যবহৃত অফিসিয়াল প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থী আশিকুর রহমানের চেহারার কোনো মিল নেই। প্রবেশপত্রে থাকা ব্যক্তির ছবির সঙ্গে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর অমিল থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্বিঘ্নে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। এই জালিয়াতির বিষয়টি দেড় মাস আগে প্রকাশ্যে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের জন্য চিঠি দিলেও সেখান থেকে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পর তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত দালিলিক প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “অভিযুক্তের ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, ওএমআর শিট ও পরীক্ষার খাতা যাচাই করা প্রয়োজন। আমরা বিভাগীয় অফিস, ডিন অফিস এবং আইসিটি সেন্টারে তথ্যের জন্য চিঠি পাঠিয়েছিলাম। আইসিটি সেন্টার জানিয়েছে তাদের কাছে তথ্য নেই এবং ডিন অফিস থেকেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।” প্রক্টর আরও যোগ করেন, যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা সম্ভব নয়, তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়ায় কতটুকু অগ্রগতি হলো তা জানানো সম্ভব হতে পারে।
এদিকে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি আইন বিভাগের অনার্সের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। জালিয়াতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে শিক্ষার্থীর ফলাফল প্রকাশ হওয়া প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় যাচাই করতে সময়ের প্রয়োজন হয়। দেড় মাস সময় খুব বেশি নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ফলাফল প্রকাশ হওয়াটা বড় কোনো বিষয় নয়। বিশ্ববিদ্যালয় যদি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো অপরাধ বা জালিয়াতি হয়েছে, তবে ওই শিক্ষার্থীর ফলাফল বা ডিগ্রি যেকোনো সময় বাতিল করা হবে।”
প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরও চার বছর ধরে একজন ‘ভুয়া’ শিক্ষার্থী কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করলেন, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















