আর্থিক অনটনের মেঘ কেটে অবশেষে উচ্চশিক্ষার আঙিনায় পা রাখলেন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী মো. মুনায়েম ইসলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েও যখন অর্থাভাবে স্বপ্নভঙ্গের উপক্রম হয়েছিল, তখন ত্রাতা হিসেবে এগিয়ে এলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। তার ঐকান্তিক সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে মুনায়েমের ভর্তির যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতা আমিরul ইসলাম বাবু, রাসেল মিয়া, মিনহাজুল আলম, ইয়াসির আরাফাত, সোলাইমান খান সাগর ও ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে মুনায়েমের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার পথে থাকা বড় একটি বাধা দূর হলো এই মেধাবী শিক্ষার্থীর।
লালমনিরহাট জেলার এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা মুনায়েম ইসলাম ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ বিভাগে প্রথম মেধা তালিকায় স্থান করে নেন। তবে মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে সফলতার দুয়ারে পৌঁছালেও বাদ সাধে পারিবারিক আর্থিক সংকট। পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল তার জন্য। বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রনেতা কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুনায়েমের ভর্তির সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন।
ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে আবেগাপ্লুত মুনায়েম ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তখন এই সহযোগিতা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এই ঋণ শোধ করার মতো নয়।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পড়াশোনা শেষ করে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে তিনিও একইভাবে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মেধা থাকা সত্ত্বেও কেবল অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া দেশের জন্য বড় ক্ষতি। কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের মতো সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন ব্যক্তিদের এমন মানবিক উদ্যোগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কোনো অভাব যেন মেধাবীদের পথচলায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
রিপোর্টারের নাম 
























