ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের রায় অগ্রাহ্য করে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণা, বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক শুল্ক স্থগিত করার পরও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা’ করা দেশগুলোকে কঠোর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে চাইলে আরও কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি, যা বিশ্বজুড়ে নতুন বাণিজ্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ঘোষিত ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে আমদানি পণ্যের ওপর কর আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এই রায়ের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের বাণিজ্য কৌশল পুনর্মূল্যায়ন শুরু করে।

তবে, আদালতের এই সিদ্ধান্তকে পাত্তা না দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেন, “ক্রেতা সাবধান! কেউ যদি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে চায়, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে।”

রায়ের পরপরই ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইনের আওতায় বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন, যা দ্রুত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই নতুন শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ১২২ ধারা প্রয়োগ করেন, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। এছাড়া, ৩০১ ধারার অধীনে ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য সম্পর্কের তদন্ত শুরুর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গ্রীষ্মে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন তারা স্থগিত করবে। ভারতও পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছে, তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তি নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কের নিচে বহাল থাকবে কি না।

যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল বলেছেন, সর্বশেষ ঘোষণায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তা তারা স্বীকার করছে এবং দেশীয় ব্যবসা সুরক্ষায় সব বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির সভাপতি বার্নড ল্যাঞ্জ জানান, পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

এদিকে, হোয়াইট হাউস অবশ্য বলেছে, আদালতের রায়ে তাদের বাণিজ্য নীতির মৌলিক অবস্থান বদলায়নি। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “আইনি হাতিয়ার পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে।”

নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক ১৫০ দিন পর শেষ হওয়ার কথা, যদি না কংগ্রেস মেয়াদ বাড়ায়। তবে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সতর্ক করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা শুল্ক বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে।

বাণিজ্য অনিশ্চয়তার প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারদর প্রায় এক শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আরও অস্থির হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি সরকারের পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

সুপ্রিম কোর্টের রায় অগ্রাহ্য করে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণা, বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক শুল্ক স্থগিত করার পরও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা’ করা দেশগুলোকে কঠোর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে চাইলে আরও কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি, যা বিশ্বজুড়ে নতুন বাণিজ্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ঘোষিত ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে আমদানি পণ্যের ওপর কর আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এই রায়ের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের বাণিজ্য কৌশল পুনর্মূল্যায়ন শুরু করে।

তবে, আদালতের এই সিদ্ধান্তকে পাত্তা না দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেন, “ক্রেতা সাবধান! কেউ যদি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে চায়, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে।”

রায়ের পরপরই ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইনের আওতায় বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন, যা দ্রুত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই নতুন শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ১২২ ধারা প্রয়োগ করেন, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। এছাড়া, ৩০১ ধারার অধীনে ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য সম্পর্কের তদন্ত শুরুর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গ্রীষ্মে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন তারা স্থগিত করবে। ভারতও পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছে, তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তি নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কের নিচে বহাল থাকবে কি না।

যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল বলেছেন, সর্বশেষ ঘোষণায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তা তারা স্বীকার করছে এবং দেশীয় ব্যবসা সুরক্ষায় সব বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির সভাপতি বার্নড ল্যাঞ্জ জানান, পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

এদিকে, হোয়াইট হাউস অবশ্য বলেছে, আদালতের রায়ে তাদের বাণিজ্য নীতির মৌলিক অবস্থান বদলায়নি। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “আইনি হাতিয়ার পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে।”

নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক ১৫০ দিন পর শেষ হওয়ার কথা, যদি না কংগ্রেস মেয়াদ বাড়ায়। তবে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সতর্ক করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা শুল্ক বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে।

বাণিজ্য অনিশ্চয়তার প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারদর প্রায় এক শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আরও অস্থির হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।