নিজস্ব প্রতিবেদক
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও র্যাব ‘হাই অ্যালার্ট’ অবস্থানে রয়েছে এবং রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে রাজধানীর প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় চার স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার মনিটরিং এবং মাঠপর্যায়ের অপারেশন—এই তিনটি দিককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন বা তাদের সহযোগীরা যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে বিশেষ নজরদারি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। শহরের দুই শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট ও বিশেষ পিকেট বসানো হবে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর, বনানী কবরস্থান, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। প্রয়োজনে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষায়িত দাঙ্গা দমন ইউনিট, সোয়াত ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।
র্যাবের সতর্ক বার্তা
র্যাবও সম্ভাব্য নাশকতা বা সহিংসতা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। বাহিনীটির কর্মকর্তারা বলেছেন, কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।র্যাবের কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকে দেশের সব ব্যাটালিয়ন ও চেকপোস্টে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কর্মসূচির প্রস্তুতি
দলটির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মিছিল, পতাকা প্রদর্শন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া ধানমন্ডি ৩২, বনানী কবরস্থান এবং টুঙ্গিপাড়ায় শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা যাতে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত না করে, সে জন্য প্রশাসনকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 




















