ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অভিনব বিক্ষোভ

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সমর্থকেরা। কৌতুক ও গভীর হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া জেন-জি প্রজন্মের এই ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মীরা তীব্র গরম উপেক্ষা করে তাঁবু খাটিয়ে রাস্তায় ও ফুটপাতে অবস্থান করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সম্প্রতি স্নাতক সম্পন্ন করা এই ভাইরাল আন্দোলনের নেতা অভিজিৎ দিপ। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ভারতে ফিরে আসার পর ইন্টারনেট থেকে এই আন্দোলনকে রাজপথে নিয়ে এসেছেন, যা ভারতীয় যুবসমাজের ক্ষোভকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে। ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতির মধ্যেও দ্বিতীয় দিনে তাদের সঙ্গে আরও বেশি মানুষ যোগ দিয়েছেন।

ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২৫ বছরের কম বয়সী। পড়ালেখা ও চাকরির তীব্র চাপের মধ্যে ঘন ঘন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং ফলাফলে অসঙ্গতির কারণে যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দিপকের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এই ক্ষোভ ও হতাশাকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।

কিছুদিন আগেও এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক ও কটাক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি যুবসমাজকে ‘তেলাপোকা’ (ককরোচ) বলে অভিহিত করলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তখন দিপকে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছিলেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তবে কী হবে?’ দ্রুতই তার এই ভাবনা ভাইরাল হয়ে যায়। দিপকে একটি আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট খোলেন এবং তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভারতের ক্ষমতাসীন দলের চেয়ে দ্বিগুণ।

দিল্লির নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল ‘যন্তর মন্তর’-এ মধ্যরাতের পর ১৮ বছর বয়সী শচীন কুমার তার নতুন বন্ধু শুভঙ্করের সঙ্গে তারযুক্ত ইয়ারফোন ভাগাভাগি করে রাস্তায় শুয়ে ছিলেন। শচীন এক বছর ধরে কঠোর পড়াশোনা করে গত মাসে ভারতের শীর্ষ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরবর্তীতে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। আল জাজিরাকে শচীন বলেন, ‘এটি আমার মনোবল ভেঙে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষণ্নতায় চলে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ পরোয়া করছে না।’ এরপর থেকে তিনি আর বই ছুঁয়ে দেখেননি। গত রোববার প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী আবারও পরীক্ষায় অংশ নিলেও শচীন প্রতিবাদস্থলেই থেকে যান, কারণ প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ভারত সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তার অভিযোগ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় আহত শিবির নেতা সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অভিনব বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:২২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সমর্থকেরা। কৌতুক ও গভীর হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া জেন-জি প্রজন্মের এই ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মীরা তীব্র গরম উপেক্ষা করে তাঁবু খাটিয়ে রাস্তায় ও ফুটপাতে অবস্থান করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সম্প্রতি স্নাতক সম্পন্ন করা এই ভাইরাল আন্দোলনের নেতা অভিজিৎ দিপ। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ভারতে ফিরে আসার পর ইন্টারনেট থেকে এই আন্দোলনকে রাজপথে নিয়ে এসেছেন, যা ভারতীয় যুবসমাজের ক্ষোভকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে। ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতির মধ্যেও দ্বিতীয় দিনে তাদের সঙ্গে আরও বেশি মানুষ যোগ দিয়েছেন।

ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২৫ বছরের কম বয়সী। পড়ালেখা ও চাকরির তীব্র চাপের মধ্যে ঘন ঘন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং ফলাফলে অসঙ্গতির কারণে যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দিপকের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এই ক্ষোভ ও হতাশাকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।

কিছুদিন আগেও এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক ও কটাক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি যুবসমাজকে ‘তেলাপোকা’ (ককরোচ) বলে অভিহিত করলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তখন দিপকে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছিলেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তবে কী হবে?’ দ্রুতই তার এই ভাবনা ভাইরাল হয়ে যায়। দিপকে একটি আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট খোলেন এবং তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভারতের ক্ষমতাসীন দলের চেয়ে দ্বিগুণ।

দিল্লির নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল ‘যন্তর মন্তর’-এ মধ্যরাতের পর ১৮ বছর বয়সী শচীন কুমার তার নতুন বন্ধু শুভঙ্করের সঙ্গে তারযুক্ত ইয়ারফোন ভাগাভাগি করে রাস্তায় শুয়ে ছিলেন। শচীন এক বছর ধরে কঠোর পড়াশোনা করে গত মাসে ভারতের শীর্ষ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরবর্তীতে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। আল জাজিরাকে শচীন বলেন, ‘এটি আমার মনোবল ভেঙে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষণ্নতায় চলে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ পরোয়া করছে না।’ এরপর থেকে তিনি আর বই ছুঁয়ে দেখেননি। গত রোববার প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী আবারও পরীক্ষায় অংশ নিলেও শচীন প্রতিবাদস্থলেই থেকে যান, কারণ প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ভারত সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তার অভিযোগ।