পাকিস্তানের রাজনীতিতে ঝড় তোলা ব্যক্তিত্ব এবং তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের চিকিৎসায় এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) তার চোখের চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ধাপেও তার দৃষ্টিশক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন তিনি শারীরিকভাবে স্থিতিশীল ছিলেন।
পিআইএমএস-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. ইমরান সিকান্দার জানিয়েছেন, আদিয়ালা সেন্ট্রাল জেল থেকে ৭৪ বছর বয়সী ইমরান খানকে এই ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল। তাকে অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনট্রাভিট্রিয়াল ইনজেকশনের দ্বিতীয় ডোজ প্রদান করা হয়েছে। এর আগে, গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি তিনি প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছিলেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এক মাস বিরতির পর এই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হলো।
আল-শিফা আই ট্রাস্ট হাসপাতালের কনসালট্যান্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ আরিফ এবং কনসালট্যান্ট ভিট্রিও-রেটিনাল সার্জন ডা. নাদিম কুরেশি মাইক্রোস্কোপের সহায়তায় এই ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। ডে-কেয়ার পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়া এই চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ মানসম্মত প্রটোকল অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসা শুরুর পূর্বে, ইমরান খানকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে। একজন কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট তার ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষা করেন, যা স্বাভাবিক ফলাফল দেয়। একইসঙ্গে, একজন কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ানও তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন। সকল পরীক্ষার পর তাকে ক্লিনিক্যালি স্থিতিশীল এবং চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়।
সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ইমরান খানের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়েই ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে সকল প্রকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং কঠোর মানসম্মত প্রটোকল অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে। এই চিকিৎসা পদ্ধতির সাফল্য ইমরান খান এবং তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























