প্রায় দশ মাস দখলমুক্ত থাকার পর ফের হকারদের আগ্রাসনে ঢাকা কলেজের সামনের ফুটপাত। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করে রশি টানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এটি অবৈধ দখলদারদের পক্ষ থেকে পুনঃদখলের একটি নতুন প্রচেষ্টা, যার পেছনে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে একদল শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। তারা ফুটপাত থেকে সমস্ত ভ্রাম্যমাণ দোকান সরিয়ে দেন এবং নতুন করে দোকান বসানো ঠেকাতে রশি টানিয়ে দেন।
এই অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের একজন পিয়াস করিম বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা সবাই মিলে কলেজের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করেছিলাম। প্রায় ১০ মাস ধরে এটি দখলমুক্ত ছিল। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কিছু লোকজন দখলের চেষ্টা করলেও সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত অবস্থানের কারণে তারা সফল হতে পারেনি।”
তিনি আরও জানান, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে আবারও ফুটপাতে দোকান বসানো শুরু হয়েছিল। “তাই আমরা ফুটপাত পরিষ্কার করে রশি টানিয়ে দিয়েছি এবং দোকানদারদের জানিয়ে দিয়েছি যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ফুটপাত দখল করা যাবে না,” যোগ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা বারবার ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিলেও এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো হয়, যার ফলে উচ্ছেদ অভিযানের কিছুদিন পরেই হকাররা আবার ফিরে আসে।
ঢাকা কলেজের সামনে ফুটপাতে অবৈধভাবে দোকান দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এক হকার জানান, “ফুটপাতে দোকান রানা ভাই খুলছে। রানা ভাইয়ের এই একটাই দোকান, উনার এই দোকান এখানে আগে থেকে ছিল।” অনুসন্ধানে জানা যায়, ফুটপাতে দোকান বসানো এই রানা আহমেদ ঢাকা কলেজের ১৭-১৮ সেশনের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী দাবি করলেও কোনো কমিটিতে তার নাম নেই।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “রমজান মাসজুড়ে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে গাউসিয়া মার্কেট হয়ে বাটা সিগনাল সংলগ্ন রাস্তা পর্যন্ত আমরা প্রতিনিয়তই ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখব।”
ফুটপাত দখলের স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যেহেতু বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, সমস্যাটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা ট্রাফিক বিভাগের সাথে কথা বলেছি এবং অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে এসেছি। আশা করা যায়, কয়েকদিনের মধ্যে এই সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।”
রিপোর্টারের নাম 

























