## পবিত্র রমজান: রোজা বিষয়ক জরুরি নির্দেশনা
রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের বার্তা নিয়ে আবার ফিরে এসেছে পবিত্র রমজান মাস। এই মাস তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির এক অবারিত সুযোগ। কেবল উপবাস নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র এটি। রমজানের এই পবিত্র সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে রোজা সংক্রান্ত নিয়মকানুন ও মাসায়েল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অপরিহার্য।
কারা রোজা রাখবেন?
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন সকল মুসলমান নর-নারীর ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অতএব, তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস পাবে, সে যেন এই মাসে রোজা রাখে।” (সুরা বাকারা: ১৮৫)।
রোজার নিয়ত:
রোজা রাখার জন্য মনে মনে সংকল্প করাই হলো নিয়ত। মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে উচ্চারণেও কোনো বাধা নেই।
সাহরি ও ইফতার:
সাহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া আবশ্যক নয়, সামান্য পানি পান করলেও এই সুন্নত আদায় হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে।” (মুসলিম: ১০৯৫)।
সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে ইফতার করা মুস্তাহাব। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যতদিন মানুষ দেরি না করে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে।” (বুখারি: ১৯৫৭)।
যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়:
স্ত্রী সহবাস করা।
ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা।
ভুলে পানাহার করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা।
বিড়ি, সিগারেট বা হুঁকা সেবন করা।
কাঁচা চাল, আটার খামির বা অতিরিক্ত পরিমাণ লবণ খাওয়া।
সাধারণত যা খাদ্য নয়, এমন কোনো বস্তু খাওয়া (যেমন: কাঠ, লোহা, কাগজ, পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি)।
পাথর, কাদামাটি, কঙ্কর, তুলা-সুতা, তৃণলতা, খড়কুটো বা কাগজ গিলে ফেলা।
নিজের থুতু হাতে নিয়ে গিলে ফেলা।
ভুলে স্ত্রী সম্ভোগের পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে পুনরায় সহবাস করা।
বৃষ্টি বা বরফের টুকরো খাদ্যনালির ভেতরে চলে যাওয়া।
দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে যদি তা থুতুর চেয়ে বেশি হয় এবং কণ্ঠনালিতে চলে যায়।
পান মুখে নিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদিক হওয়া।
কাউকে জোরপূর্বক পানাহার করানো।
ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা বা বমি আসার পর তা গিলে ফেলা।
মহিলাদের মাসিক বা সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব চলাকালীন রোজা রাখা।
যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না:
অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতর ধুলাবালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।
অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে পানি প্রবেশ করা।
অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।
বমি আসার পর তা নিজে থেকেই চলে যাওয়া।
চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা।
ইনজেকশন নেওয়া।
ভুলক্রমে পানাহার করা।
সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কোনো সুঘ্রাণ নেওয়া।
নিজের মুখের থুতু বা কফ গলাধঃকরণ করা।
শরীর বা মাথায় তেল ব্যবহার করা।
ঠান্ডা লাগার কারণে গোসল করা।
মিসওয়াক করা (তবে শর্ত হলো, মিসওয়াক করার সময় দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে গলার ভেতর যেন না যায়)।
ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া।
স্ত্রীর দিকে তাকানোর কারণে কোনো চেষ্টা ছাড়াই বীর্যপাত হওয়া।
স্ত্রীকে চুম্বন করা, যদি বীর্যপাত না হয় (যদিও এটি রোজার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হতে পারে)।
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা অল্প পরিমাণ গোশত খেয়ে ফেলা (বেশি পরিমাণ হলে রোজা ভেঙে যাবে)।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে রমজানের রোজা রাখার তৌফিক দান করুন এবং আমাদের সকল ইবাদত কবুল করে নিন। আমিন।
রিপোর্টারের নাম 























