ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ফিরবে জনগণের আস্থা, শক্তিশালী হবে রাষ্ট্র: মির্জা ফখরুল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করতে হলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে একটি দল হিসেবে কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। আমরা যদি বিভেদ ভুলে একটি টিম হিসেবে কাজ করতে পারি, তবেই উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক একটি সফল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সরকার হিসেবে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, বিগত পনেরো বছরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেভাবে দুর্বল, অকার্যকর ও আস্থাহীন হয়ে পড়েছিল, সেগুলোকে পুনরায় সচল ও কার্যকর করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়, বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি। তাই সরকারের এই পুনর্গঠন কার্যক্রমকে টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

গ্রামের মানুষের কষ্ট লাঘব করাকে রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিক সবার দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার ক্রমান্বয়ে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এগুলো জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরিতে এই মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলেই নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনে এই মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ও আন্তরিক উদ্যোগই হতে পারে পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি।

সভায় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যাবলির ওপর একটি উপস্থাপনা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এর অধীন দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে নিজ বাড়িতে স্কুলশিক্ষিকাকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা

ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ফিরবে জনগণের আস্থা, শক্তিশালী হবে রাষ্ট্র: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করতে হলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে একটি দল হিসেবে কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। আমরা যদি বিভেদ ভুলে একটি টিম হিসেবে কাজ করতে পারি, তবেই উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক একটি সফল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সরকার হিসেবে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, বিগত পনেরো বছরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেভাবে দুর্বল, অকার্যকর ও আস্থাহীন হয়ে পড়েছিল, সেগুলোকে পুনরায় সচল ও কার্যকর করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়, বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি। তাই সরকারের এই পুনর্গঠন কার্যক্রমকে টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

গ্রামের মানুষের কষ্ট লাঘব করাকে রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিক সবার দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার ক্রমান্বয়ে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এগুলো জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরিতে এই মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলেই নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনে এই মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ও আন্তরিক উদ্যোগই হতে পারে পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি।

সভায় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যাবলির ওপর একটি উপস্থাপনা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এর অধীন দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।