বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর খোন্দকার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন। ২০১১ সালের ১১ জুলাই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) যোগদানের প্রথম রাতেই তিনি এক বিশেষ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে এক বন্দীকে টঙ্গীর আহসানুল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভারের কাছে একটি ব্রিজের উপর রেলিংয়ে ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। জবানবন্দিতে তিনি জানান, তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান নিজেই বন্দীর মাথায় গুলি করেছিলেন এবং পরে তাকে ব্রিজের নিচ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনা দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন সদ্য যোগদানকারী মেজর সাজ্জাদ।
স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়া এই সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, তার বর্তমান বয়স ৫৫ বছর এবং তিনি বর্তমানে একজন ব্যবসায়ী। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করার পর ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি মেজর পদে থাকা অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ৫ জুলাই তিনি সরকারি আদেশে র্যাবে বদলি হন, যেখানে লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান তখন ডাইরেক্টর ইন্টেলিজেন্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মেজর সাজ্জাদের সাথে জিয়াউলের সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং পরদিনই তাকে র্যাব সদর দপ্তর থেকে র্যাব-৩-এ বদলি করা হয়। র্যাব-৩-এর তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম তাকে ওই রাতে একটি অপারেশনে যাওয়ার নির্দেশ দেন, যা ছিল লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানের নির্দেশেই।
মেজর সাজ্জাদের ভাষ্যমতে, সেদিন আনুমানিক রাত ১১টার দিকে তিনি লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম, মেজর তরিকুল এবং আরও একজন অফিসারের সাথে সাদা পোশাকে র্যাব সদর দপ্তরের গেটে পৌঁছান। সেখানে তাদের গাড়ি পৌঁছানোর পর র্যাব সদর দপ্তরের ভেতর থেকে আরও তিনটি গাড়ি এসে যোগ দেয়। চারটি গাড়ি তখন র্যাব সদর দপ্তর থেকে রওনা দেয়। টঙ্গীর আহসানুল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভার পার হয়ে একটি ইউটার্ন নিয়ে ভেতরের দিকে একটি রাস্তা ধরে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট চলার পর গাড়িগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছায়। সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে বলে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। এই জবানবন্দিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















