ঢাকা ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সংসদীয় কমিটিতে তিন মাস পর মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিবাচক সাড়া

দেশে বিদ্যমান ছয় মাস পর পর মুদ্রানীতি ঘোষণার পরিবর্তে তিন মাস পর পর মুদ্রানীতি ঘোষণার একটি প্রস্তাব সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সংসদ সদস্য এবং কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত (আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ) এই প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রস্তাবটিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে এটি গ্রহণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে।

কমিটির সভাপতি মো. মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং আবুল হাসনাত (আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ) অংশ নেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়। দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সুদের হারভিত্তিক মুদ্রানীতি থেকে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি-লক্ষ্যভিত্তিক মুদ্রানীতিতে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম ও মুদ্রানীতি সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করে, যেখানে বর্তমান মুদ্রানীতির কাঠামো, এর বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। উপস্থাপনা শেষে কমিটির সদস্যরা বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং দেশের মুদ্রানীতি ও আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর প্রস্তাবকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ‘খুব ভালো পরামর্শ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আবুল হাসনাত যে পয়েন্টগুলো বলেছেন, সেগুলোর মধ্যে মুদ্রানীতি ছয় মাসের পরিবর্তে তিন মাসের করার যে প্রস্তাব, সেটা খুব ভালো পরামর্শ। আমার মনে হয়, এটা নেওয়া উচিত।’ এদিকে, বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম কথা বলেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে জানতে চান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহের ফুলপুরে সংস্কারের অভাবে বিধ্বস্ত সড়ক যোগাযোগ, জনদুর্ভোগ চরমে

সংসদীয় কমিটিতে তিন মাস পর মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিবাচক সাড়া

আপডেট সময় : ০৬:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

দেশে বিদ্যমান ছয় মাস পর পর মুদ্রানীতি ঘোষণার পরিবর্তে তিন মাস পর পর মুদ্রানীতি ঘোষণার একটি প্রস্তাব সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সংসদ সদস্য এবং কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত (আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ) এই প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রস্তাবটিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে এটি গ্রহণ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে।

কমিটির সভাপতি মো. মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং আবুল হাসনাত (আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ) অংশ নেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়। দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সুদের হারভিত্তিক মুদ্রানীতি থেকে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি-লক্ষ্যভিত্তিক মুদ্রানীতিতে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম ও মুদ্রানীতি সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করে, যেখানে বর্তমান মুদ্রানীতির কাঠামো, এর বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। উপস্থাপনা শেষে কমিটির সদস্যরা বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং দেশের মুদ্রানীতি ও আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর প্রস্তাবকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ‘খুব ভালো পরামর্শ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আবুল হাসনাত যে পয়েন্টগুলো বলেছেন, সেগুলোর মধ্যে মুদ্রানীতি ছয় মাসের পরিবর্তে তিন মাসের করার যে প্রস্তাব, সেটা খুব ভালো পরামর্শ। আমার মনে হয়, এটা নেওয়া উচিত।’ এদিকে, বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম কথা বলেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে জানতে চান।