ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

উচ্চশিক্ষার মেরুদণ্ড হবেন প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা: ইউজিসি সদস্য

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার যে পরিবর্তন আসছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ভূমিকা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ শিক্ষকরাই জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হবেন।

রবিবার সাভারের ব্রাক সিডিএমে ‘সিনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় জাতীয় প্রশিক্ষকদের জন্য আয়োজিত ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মামুন আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দায়িত্ব কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব প্রদান, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার মান উন্নয়ন, পাঠ্যক্রমে নতুনত্ব আনা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। এসব কারণে উচ্চশিক্ষা খাতে একাডেমিক নেতৃত্ব, শিক্ষাদানের দক্ষতা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামগ্রিক মান উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় শিক্ষক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কেবল একটি পেশাগত উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একাডেমিক নেতৃত্ব বিকাশের জন্য একটি টেকসই কাঠামো প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রকল্পের অর্থ যেন যথাযথভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মিস মারিয়া রহমান এবং অধ্যাপক বেন ব্রাবন বক্তব্য রাখেন।

প্রথম পর্যায়ে ২০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরির সাফল্যের পর, দ্বিতীয় পর্যায়ের ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত ২০ জন ন্যাশনাল ট্রেইনার অংশগ্রহণ করছেন। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্দীকে ব্রিজের রেলিংয়ে ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর

উচ্চশিক্ষার মেরুদণ্ড হবেন প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা: ইউজিসি সদস্য

আপডেট সময় : ০৯:২৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার যে পরিবর্তন আসছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ভূমিকা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ শিক্ষকরাই জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হবেন।

রবিবার সাভারের ব্রাক সিডিএমে ‘সিনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় জাতীয় প্রশিক্ষকদের জন্য আয়োজিত ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মামুন আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দায়িত্ব কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব প্রদান, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার মান উন্নয়ন, পাঠ্যক্রমে নতুনত্ব আনা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। এসব কারণে উচ্চশিক্ষা খাতে একাডেমিক নেতৃত্ব, শিক্ষাদানের দক্ষতা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামগ্রিক মান উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় শিক্ষক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কেবল একটি পেশাগত উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একাডেমিক নেতৃত্ব বিকাশের জন্য একটি টেকসই কাঠামো প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রকল্পের অর্থ যেন যথাযথভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মিস মারিয়া রহমান এবং অধ্যাপক বেন ব্রাবন বক্তব্য রাখেন।

প্রথম পর্যায়ে ২০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরির সাফল্যের পর, দ্বিতীয় পর্যায়ের ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত ২০ জন ন্যাশনাল ট্রেইনার অংশগ্রহণ করছেন। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।