হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য নির্মাণাধীন একটি ঝুলন্ত সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক ও সুরক্ষা গাইডওয়াল উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন ঘটনায় প্রকল্প পরিকল্পনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও পরিবেশসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও যথাযথ তদারকির অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বলছে, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোতের কারণেই প্রকল্পের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের ধারণা, প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশাতেও বড় ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখে পাহাড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুটি কয়েক বছর আগে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পর্যটকদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল এক কোটি ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ টাকা। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই প্রকল্পের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিল ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ঝুলন্ত সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের বড় অংশ ধসে গেছে এবং ধসে যাওয়া অংশ তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি গাইডওয়ালের বিস্তীর্ণ অংশ ভেঙে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেতুটিরও বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়ায় প্রকল্পটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
রিপোর্টারের নাম 


















