ঢাকা ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

অভিবাসন ব্যয় লাগামহীন: মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপটে বিদেশে যেতে গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি টাকা

মধ্যস্বত্বভোগী, ভিসা-বাণিজ্য এবং অসাধু জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সিন্ডিকেটের কারণে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যয় লাগামহীনভাবে বাড়ছে। কাগজে-কলমে বিদেশে কর্মী পাঠানোর খরচ কম দেখানো হলেও বাস্তবে ভিসাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় বৃদ্ধি রোধে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

১০ বছর আগে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের নির্ধারিত তালিকা থাকলেও, বর্তমান বাস্তবতার সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় এবং মন্ত্রণালয়ের তদারকির অভাবে নির্ধারিত ফির চেয়ে ৫-৬ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে নিরাপদ অভিবাসন ব্যয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়া, বাহরাইন ও আরব আমিরাতসহ ১৪টি দেশ এবং ২০১৬ সালে সৌদি আরবের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নোটিস অনুযায়ী, সৌদি আরবের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, মালয়েশিয়ায় কৃষি শ্রমিকের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, লিবিয়ার জন্য ১ লাখ ৪৫ হাজার, বাহরাইনের জন্য ৯৮ হাজার, আরব আমিরাতের জন্য ১ লাখ সাত হাজার, কুয়েতের জন্য ১ লাখ সাত হাজার, ওমানের জন্য ১ লাখ এবং ইরাকের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়াও, কাতারে কর্মী পাঠাতে ১ লাখ টাকা, জর্ডানে ১ লাখ ২৭৮০ টাকা, মিসরে ১ লাখ ২০ হাজার, রাশিয়ায় ১ লাখ ৬৬ হাজার, মালদ্বীপে ১ লাখ ১৫ হাজার, ব্রুনাইয়ে ১ লাখ ২০ হাজার এবং লেবাননে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা নেওয়া কথা ছিল। সরকারিভাবে ব্যয় নির্ধারিত হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ার পেছনে ভিসা-বাণিজ্য, অগ্রহণযোগ্য ব্যয় নির্ধারণ এবং মন্ত্রণালয়ের তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশি-বিদেশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের দক্ষতার ওপরও এই ব্যয় নির্ভর করে। প্রবাসীরা বলছেন, বিদেশে আসার জন্য যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তা তুলতেই কয়েক বছর লেগে যায়। অনেক সময় ঋণ করে বিদেশ যাওয়া কর্মীরা সেই টাকা পরিশোধের আগেই অবৈধ হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন, যা তাদের জীবনকে আরও নাজুক করে তোলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহের ফুলপুরে সংস্কারের অভাবে বিধ্বস্ত সড়ক যোগাযোগ, জনদুর্ভোগ চরমে

অভিবাসন ব্যয় লাগামহীন: মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপটে বিদেশে যেতে গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি টাকা

আপডেট সময় : ০৬:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মধ্যস্বত্বভোগী, ভিসা-বাণিজ্য এবং অসাধু জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সিন্ডিকেটের কারণে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যয় লাগামহীনভাবে বাড়ছে। কাগজে-কলমে বিদেশে কর্মী পাঠানোর খরচ কম দেখানো হলেও বাস্তবে ভিসাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় বৃদ্ধি রোধে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

১০ বছর আগে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের নির্ধারিত তালিকা থাকলেও, বর্তমান বাস্তবতার সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় এবং মন্ত্রণালয়ের তদারকির অভাবে নির্ধারিত ফির চেয়ে ৫-৬ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে নিরাপদ অভিবাসন ব্যয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়া, বাহরাইন ও আরব আমিরাতসহ ১৪টি দেশ এবং ২০১৬ সালে সৌদি আরবের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নোটিস অনুযায়ী, সৌদি আরবের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, মালয়েশিয়ায় কৃষি শ্রমিকের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, লিবিয়ার জন্য ১ লাখ ৪৫ হাজার, বাহরাইনের জন্য ৯৮ হাজার, আরব আমিরাতের জন্য ১ লাখ সাত হাজার, কুয়েতের জন্য ১ লাখ সাত হাজার, ওমানের জন্য ১ লাখ এবং ইরাকের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়াও, কাতারে কর্মী পাঠাতে ১ লাখ টাকা, জর্ডানে ১ লাখ ২৭৮০ টাকা, মিসরে ১ লাখ ২০ হাজার, রাশিয়ায় ১ লাখ ৬৬ হাজার, মালদ্বীপে ১ লাখ ১৫ হাজার, ব্রুনাইয়ে ১ লাখ ২০ হাজার এবং লেবাননে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা নেওয়া কথা ছিল। সরকারিভাবে ব্যয় নির্ধারিত হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ার পেছনে ভিসা-বাণিজ্য, অগ্রহণযোগ্য ব্যয় নির্ধারণ এবং মন্ত্রণালয়ের তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশি-বিদেশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের দক্ষতার ওপরও এই ব্যয় নির্ভর করে। প্রবাসীরা বলছেন, বিদেশে আসার জন্য যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তা তুলতেই কয়েক বছর লেগে যায়। অনেক সময় ঋণ করে বিদেশ যাওয়া কর্মীরা সেই টাকা পরিশোধের আগেই অবৈধ হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন, যা তাদের জীবনকে আরও নাজুক করে তোলে।