দেশের প্রধান নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম যমুনা তার ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রেখেছে। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জোতপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে গভীর রাতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনতা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি টিনশেড ভবনের একাংশ নদীতে ধসে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করা হলেও তা পর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মোল্লা জানান, মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে এই ভয়াবহ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। ভাঙনের আতঙ্কে আশপাশের অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও মূল্যবান আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল পাতিলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত ২০ বছরে ১১ বার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এবারও ভাঙনের মুখে পড়ে বিদ্যালয়টির স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বারবার স্থান পরিবর্তন এবং অবকাঠামো ভাঙা-গড়া নিয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা উদ্বিগ্ন। সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পাতিলবাড়ী গ্রামের এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে এটি। ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় ১০ বার ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত করতে হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর যমুনা নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি বিলীন হলেও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 


















