ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কটিয়াদীর মরা নদী সেজেছে লাল শাপলার অপরূপ সাজে

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ির পুকুরঘাট সংলগ্ন মরা নদী যেন এখন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক জীবন্ত জলরঙের ছবিতে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকে সবুজ পাতার বিস্তৃত চাদরের মাঝে ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা চারপাশের পরিবেশকে এক মোহনীয় সৌন্দর্য দান করেছে। বর্ষার এই মনোরম দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও নানা বয়সের দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শান্ত জলের উপর থালার মতো গোলাকার সবুজ পাতার মাঝে লাল শাপলার সারি এক নিখুঁত প্রাকৃতিক শিল্পকর্ম তৈরি করেছে। ভোরের কোমল আলোয় ফুলগুলো পূর্ণ প্রস্ফুটিত থাকে এবং সূর্যের তেজ বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে পাপড়ি বন্ধ হয়ে আসে। এই ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে প্রকৃতির শোভা উপভোগ করছেন, আবার কেউ স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলে রাখছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জাতীয় ফুল সাদা শাপলা। একসময় বর্ষা এলেই দেশের বিভিন্ন বিল, ঝিল, খাল ও জলাশয় শাপলা-পদ্মে ভরে যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিতভাবে জলাশয় ভরাট এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের অবক্ষয়ের কারণে দিন দিন এসব জলজ উদ্ভিদের বিস্তৃতি কমে যাচ্ছে, ফলে প্রকৃতির এই চিরচেনা সৌন্দর্য এখন অনেকটাই বিরল হয়ে উঠেছে।

অস্কারজয়ী সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি দেখতে আসা দর্শনার্থী রহিমা খাতুন বলেন, বাড়ি দেখতে এসে লাল শাপলার এমন অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারব, তা ভাবিনি। পুরো নদীজুড়ে লাল শাপলার দৃশ্য সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়। তিনি স্মৃতি হিসেবে অনেক ছবিও তুলে রেখেছেন।

উপসহকারী কৃষি অফিসার মইনুল ইসলাম জানান, পদ্ম ও শাপলা ভিন্ন প্রজাতির জলজ ফুল। শ্রাবণ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত এদের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কিন্তু জলাশয় ভরাট ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে শাপলা-পদ্মসহ অনেক জলজ উদ্ভিদ আজ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রকৃতির এই ঐশ্বর্য রক্ষায় জলাশয় সংরক্ষণে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিট বেল্ট ছাড়া ড্রাইভিং ও ফোনে কথায় হবে এআই মামলা

কটিয়াদীর মরা নদী সেজেছে লাল শাপলার অপরূপ সাজে

আপডেট সময় : ০১:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ির পুকুরঘাট সংলগ্ন মরা নদী যেন এখন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক জীবন্ত জলরঙের ছবিতে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকে সবুজ পাতার বিস্তৃত চাদরের মাঝে ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা চারপাশের পরিবেশকে এক মোহনীয় সৌন্দর্য দান করেছে। বর্ষার এই মনোরম দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও নানা বয়সের দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শান্ত জলের উপর থালার মতো গোলাকার সবুজ পাতার মাঝে লাল শাপলার সারি এক নিখুঁত প্রাকৃতিক শিল্পকর্ম তৈরি করেছে। ভোরের কোমল আলোয় ফুলগুলো পূর্ণ প্রস্ফুটিত থাকে এবং সূর্যের তেজ বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে পাপড়ি বন্ধ হয়ে আসে। এই ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে প্রকৃতির শোভা উপভোগ করছেন, আবার কেউ স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলে রাখছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জাতীয় ফুল সাদা শাপলা। একসময় বর্ষা এলেই দেশের বিভিন্ন বিল, ঝিল, খাল ও জলাশয় শাপলা-পদ্মে ভরে যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিতভাবে জলাশয় ভরাট এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের অবক্ষয়ের কারণে দিন দিন এসব জলজ উদ্ভিদের বিস্তৃতি কমে যাচ্ছে, ফলে প্রকৃতির এই চিরচেনা সৌন্দর্য এখন অনেকটাই বিরল হয়ে উঠেছে।

অস্কারজয়ী সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি দেখতে আসা দর্শনার্থী রহিমা খাতুন বলেন, বাড়ি দেখতে এসে লাল শাপলার এমন অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারব, তা ভাবিনি। পুরো নদীজুড়ে লাল শাপলার দৃশ্য সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়। তিনি স্মৃতি হিসেবে অনেক ছবিও তুলে রেখেছেন।

উপসহকারী কৃষি অফিসার মইনুল ইসলাম জানান, পদ্ম ও শাপলা ভিন্ন প্রজাতির জলজ ফুল। শ্রাবণ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত এদের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কিন্তু জলাশয় ভরাট ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে শাপলা-পদ্মসহ অনেক জলজ উদ্ভিদ আজ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রকৃতির এই ঐশ্বর্য রক্ষায় জলাশয় সংরক্ষণে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।