ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ভারতে নিট প্রশ্নফাঁস: ৬ শব্দের পোস্ট থেকে শুরু হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ পর্যন্ত গড়ালো আন্দোলন

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলন দানা বেঁধেছে। মাত্র ছয় শব্দের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করে এবং এর ফলে শেষ পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, সরকারি জবাবদিহি এবং বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক বিশ্লেষণে এই আন্দোলনকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় ছাত্রসমাবেশ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিগত দশকে যেসকল বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছে, সেগুলো মূলত আদর্শিক বা নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ছিল। তবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কর্তৃক আয়োজিত এই আন্দোলন ছিল ভিন্ন প্রকৃতির। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো ইয়ামিনি আয়ারের মতে, ভারতের পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা জাতি, শ্রেণি এবং লিঙ্গের ভেদাভেদকে ছাপিয়ে বিপুল সংখ্যক তরুণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই আন্দোলনের বিশেষত্ব হলো যে এটি কোনো একক স্বার্থগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেনি, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরের তরুণদের সম্মিলিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে আসে?’ এই ছয় শব্দের একটি এক্স (পূর্বের টুইটার) পোস্ট থেকে। ৩০ বছর বয়সী রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকের এই পোস্টটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র আন্দোলনের জন্ম দেবে, তা হয়তো তিনি নিজেও কল্পনা করেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিজিৎ দীপকই এই আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। গত ১৬ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করলে, তার মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে তিনি পরে দাবি করলেও, দীপকের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) জন্ম হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্দীকে ব্রিজের রেলিংয়ে ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর

ভারতে নিট প্রশ্নফাঁস: ৬ শব্দের পোস্ট থেকে শুরু হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ পর্যন্ত গড়ালো আন্দোলন

আপডেট সময় : ০৯:২৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলন দানা বেঁধেছে। মাত্র ছয় শব্দের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করে এবং এর ফলে শেষ পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, সরকারি জবাবদিহি এবং বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক বিশ্লেষণে এই আন্দোলনকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় ছাত্রসমাবেশ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিগত দশকে যেসকল বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছে, সেগুলো মূলত আদর্শিক বা নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ছিল। তবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কর্তৃক আয়োজিত এই আন্দোলন ছিল ভিন্ন প্রকৃতির। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো ইয়ামিনি আয়ারের মতে, ভারতের পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা জাতি, শ্রেণি এবং লিঙ্গের ভেদাভেদকে ছাপিয়ে বিপুল সংখ্যক তরুণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই আন্দোলনের বিশেষত্ব হলো যে এটি কোনো একক স্বার্থগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেনি, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরের তরুণদের সম্মিলিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে আসে?’ এই ছয় শব্দের একটি এক্স (পূর্বের টুইটার) পোস্ট থেকে। ৩০ বছর বয়সী রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকের এই পোস্টটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র আন্দোলনের জন্ম দেবে, তা হয়তো তিনি নিজেও কল্পনা করেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিজিৎ দীপকই এই আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। গত ১৬ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করলে, তার মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে তিনি পরে দাবি করলেও, দীপকের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) জন্ম হয়।