ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

এআইয়ের ভবিষ্যৎ মুষ্টিমেয় দেশের ইচ্ছায় নয়, বৈশ্বিক তহবিল চাইলেন গুতেরেস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি এর গভীর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ গুটিকয়েক ধনী ব্যক্তি বা অল্প কয়েকটি দেশের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে না। বরং এআইয়ের সুফল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে তিনি ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বৈশ্বিক এআই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গুতেরেস এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা এই প্রযুক্তিতে বিশ্বের সবার ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনকুবেরদের এই তহবিলে অবদান রাখা উচিত।

জাতিসংঘ মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, “এআই সবার জন্য হওয়া প্রয়োজন।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যথাসময়ে সুচিন্তিত পদক্ষেপ না নিলে এই প্রযুক্তি বিশ্বে বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এআই স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে জানান, এর ফলে পক্ষপাত, বৈষম্য এবং নানা ধরনের ক্ষতির সৃষ্টি হতে পারে।

এআই নীতিনির্ধারণে দেশগুলোকে সহায়তা করতে জাতিসংঘ একটি বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে বলেও গুতেরেস জানান। তিনি মানুষকে শোষণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার না করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্যাম অল্টম্যান ও সুন্দর পিচাই-এর মতো প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা। তাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, ৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়ের এক শতাংশেরও কম। অথচ এই সামান্য পরিমাণ অর্থ দিয়ে এআইয়ের সুফল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

এআই প্রযুক্তির প্রসারে বিদ্যুৎ ও পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা উল্লেখ করে তিনি ডেটা সেন্টারগুলোতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানান। গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে বিশ্বের বহু দেশ এআই বিপ্লব থেকে পিছিয়ে পড়বে, যা বৈশ্বিক বৈষম্যকে আরও তীব্র করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই ফাউন্ডেশনের সংকট: এমপিদের বেতন প্রদানের আহ্বানে নূরের সংহতি

এআইয়ের ভবিষ্যৎ মুষ্টিমেয় দেশের ইচ্ছায় নয়, বৈশ্বিক তহবিল চাইলেন গুতেরেস

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি এর গভীর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ গুটিকয়েক ধনী ব্যক্তি বা অল্প কয়েকটি দেশের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে না। বরং এআইয়ের সুফল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে তিনি ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বৈশ্বিক এআই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গুতেরেস এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা এই প্রযুক্তিতে বিশ্বের সবার ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনকুবেরদের এই তহবিলে অবদান রাখা উচিত।

জাতিসংঘ মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, “এআই সবার জন্য হওয়া প্রয়োজন।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যথাসময়ে সুচিন্তিত পদক্ষেপ না নিলে এই প্রযুক্তি বিশ্বে বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এআই স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে জানান, এর ফলে পক্ষপাত, বৈষম্য এবং নানা ধরনের ক্ষতির সৃষ্টি হতে পারে।

এআই নীতিনির্ধারণে দেশগুলোকে সহায়তা করতে জাতিসংঘ একটি বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে বলেও গুতেরেস জানান। তিনি মানুষকে শোষণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার না করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্যাম অল্টম্যান ও সুন্দর পিচাই-এর মতো প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা। তাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, ৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়ের এক শতাংশেরও কম। অথচ এই সামান্য পরিমাণ অর্থ দিয়ে এআইয়ের সুফল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

এআই প্রযুক্তির প্রসারে বিদ্যুৎ ও পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা উল্লেখ করে তিনি ডেটা সেন্টারগুলোতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানান। গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে বিশ্বের বহু দেশ এআই বিপ্লব থেকে পিছিয়ে পড়বে, যা বৈশ্বিক বৈষম্যকে আরও তীব্র করবে।