ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

## রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান শুরু

ঢাকা: আজ থেকে শুরু হয়েছে মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস পবিত্র রমজান। চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে এই অসীম রহমত ও কল্যাণের সওগাত বয়ে আনা মাসটি মুসলিম বিশ্বে আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার অধিকাংশ দেশে আজ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রথম রোজার ইফতার ও সেহরি পালন করছেন।

হিজরি সনের নবম মাস হিসেবে পরিচিত এই পবিত্র রমজান আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অমূল্য সুযোগ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা রোজা রাখাকে ‘তাকওয়া’ অর্জনের জন্য অবশ্য পালনীয় বিধান হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই বিধান শুধু ইসলামের সঙ্গেই নতুন নয়, বরং পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসুলের উম্মতের জন্যও রোজা পালন অবশ্য কর্তব্য ছিল।

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা পালন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। কারণ, এই মাসেই মানবজাতির জন্য হেদায়েত, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যকারী মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়। সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “রমজান এমন একটি মাস, যে মাসে কোরআন মজিদ নাজিল করা হয়।” আর এই মাসটিকে যারা পাবে, তাদের জন্য রোজা পালনকে অবশ্য কর্তব্য হিসেবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, অসুস্থ ও মুসাফিরদের জন্য এই বিধানে শিথিলতা এনে পরে তা পূরণ করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে, যা আল্লাহর বান্দাদের প্রতি তাঁর সহজতা ও দয়ারই প্রকাশ।

আল-কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার এই গৌরবময় মাসে রোজা পালনের মধ্যে রয়েছে “অধিকতর কল্যাণ”। এটি কেবল আত্মিক বা মানসিক নয়, বরং শারীরিক ও সামাজিক কল্যাণও নিশ্চিত করে। এমন কল্যাণপ্রসূ ইবাদত আর দ্বিতীয়টি নেই।

শুধু আল-কোরআনই নয়, অন্যান্য আসমানি কিতাবও এই পবিত্র মাসে নাজিল হয়েছিল। হাদিস শরীফ অনুযায়ী, হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সহিফাসমূহ রমজানের প্রথম রাতে, হযরত মুসা (আ.)-এর প্রতি তাওরাত রমজানের ৬ তারিখে, হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রতি ইনজিল রমজানের ১৩ তারিখে এবং আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আল-কোরআন রমজানের ২৪ তারিখে নাজিল হয়। এছাড়াও, হযরত দাউদ (আ.)-এর ওপর যাবুর নাজিল হয়েছিল ১২ রমজানে।

পবিত্র মাহে রমজানে রোজা পালনের তাৎপর্য সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, রোজা হলো রোজাদার ব্যক্তির জন্য ঢালস্বরূপ। এই ঢাল তাকে যাবতীয় অপকর্ম, পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করে। রোজাদার ব্যক্তি ঝগড়া-বিবাদ বা গালমন্দ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে এবং কেউ তাকে উত্যক্ত করলে বলবে, “আমি রোজা রেখেছি।” রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমার উদ্দেশ্যেই পানাহার ও লোভনীয় বস্তু পরিত্যাগ করা হয়। তাই রোজার পুরস্কার বিশেষভাবে আমিই (আল্লাহ) দান করব, আর নেক কাজের পুরস্কার দশ গুণ পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে।”

এই পবিত্র মাসে মুসলিম উম্মাহ সংযম, সহনশীলতা এবং আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন হবে, এটাই প্রত্যাশা।

লেখক: (প্রবন্ধটি যিনি লিখেছেন তার পরিচয় এখানে উল্লেখ করা হবে না, কারণ এটি একটি সংবাদ প্রতিবেদন।)

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান শুরু

ঢাকা: আজ থেকে শুরু হয়েছে মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস পবিত্র রমজান। চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে এই অসীম রহমত ও কল্যাণের সওগাত বয়ে আনা মাসটি মুসলিম বিশ্বে আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার অধিকাংশ দেশে আজ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রথম রোজার ইফতার ও সেহরি পালন করছেন।

হিজরি সনের নবম মাস হিসেবে পরিচিত এই পবিত্র রমজান আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অমূল্য সুযোগ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা রোজা রাখাকে ‘তাকওয়া’ অর্জনের জন্য অবশ্য পালনীয় বিধান হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই বিধান শুধু ইসলামের সঙ্গেই নতুন নয়, বরং পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসুলের উম্মতের জন্যও রোজা পালন অবশ্য কর্তব্য ছিল।

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা পালন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। কারণ, এই মাসেই মানবজাতির জন্য হেদায়েত, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যকারী মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়। সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “রমজান এমন একটি মাস, যে মাসে কোরআন মজিদ নাজিল করা হয়।” আর এই মাসটিকে যারা পাবে, তাদের জন্য রোজা পালনকে অবশ্য কর্তব্য হিসেবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, অসুস্থ ও মুসাফিরদের জন্য এই বিধানে শিথিলতা এনে পরে তা পূরণ করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে, যা আল্লাহর বান্দাদের প্রতি তাঁর সহজতা ও দয়ারই প্রকাশ।

আল-কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার এই গৌরবময় মাসে রোজা পালনের মধ্যে রয়েছে “অধিকতর কল্যাণ”। এটি কেবল আত্মিক বা মানসিক নয়, বরং শারীরিক ও সামাজিক কল্যাণও নিশ্চিত করে। এমন কল্যাণপ্রসূ ইবাদত আর দ্বিতীয়টি নেই।

শুধু আল-কোরআনই নয়, অন্যান্য আসমানি কিতাবও এই পবিত্র মাসে নাজিল হয়েছিল। হাদিস শরীফ অনুযায়ী, হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সহিফাসমূহ রমজানের প্রথম রাতে, হযরত মুসা (আ.)-এর প্রতি তাওরাত রমজানের ৬ তারিখে, হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রতি ইনজিল রমজানের ১৩ তারিখে এবং আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আল-কোরআন রমজানের ২৪ তারিখে নাজিল হয়। এছাড়াও, হযরত দাউদ (আ.)-এর ওপর যাবুর নাজিল হয়েছিল ১২ রমজানে।

পবিত্র মাহে রমজানে রোজা পালনের তাৎপর্য সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, রোজা হলো রোজাদার ব্যক্তির জন্য ঢালস্বরূপ। এই ঢাল তাকে যাবতীয় অপকর্ম, পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করে। রোজাদার ব্যক্তি ঝগড়া-বিবাদ বা গালমন্দ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে এবং কেউ তাকে উত্যক্ত করলে বলবে, “আমি রোজা রেখেছি।” রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমার উদ্দেশ্যেই পানাহার ও লোভনীয় বস্তু পরিত্যাগ করা হয়। তাই রোজার পুরস্কার বিশেষভাবে আমিই (আল্লাহ) দান করব, আর নেক কাজের পুরস্কার দশ গুণ পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে।”

এই পবিত্র মাসে মুসলিম উম্মাহ সংযম, সহনশীলতা এবং আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন হবে, এটাই প্রত্যাশা।

লেখক: (প্রবন্ধটি যিনি লিখেছেন তার পরিচয় এখানে উল্লেখ করা হবে না, কারণ এটি একটি সংবাদ প্রতিবেদন।)