ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান শুরু: জেনে নিন তারাবি নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সিয়াম সাধনার এই মাসে আত্মশুদ্ধির অংশ হিসেবে আজ বুধবার থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এশার নামাজের পর তারাবি আদায় শুরু করবেন। সওয়াব ও মাগফিরাতের আশায় মাসব্যাপী চলবে বিশেষ এই ইবাদত।

তারাবি শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য
আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দটি ‘রাহাতুন’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো বিশ্রাম বা আরাম করা। যেহেতু এই নামাজ দীর্ঘ হয়, তাই মুসল্লিদের ক্লান্তি দূর করতে প্রতি চার রাকাত পরপর বিরতি নিয়ে দোয়া ও তসবিহ পাঠ করা হয়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই একে ‘সালাতুত তারাবিহ’ বলা হয়।

রমজানে তারাবি নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসে তারাবি নামাজ আদায় করবে এবং রোজা রাখবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি)

নামাজের নিয়ম ও নিয়ত
রমজান মাসে এশার ফরজ ও সুন্নাত নামাজের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে তারাবি নামাজ আদায় করতে হয়। তারাবি নামাজের নিয়ত নিচে দেওয়া হলো:

আরবি নিয়ত: نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

যদি জামাতে নামাজ আদায় করা হয়, তবে ‘সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা’ বলার পর ‘ইক্বতাদাইতু বি হাজাল ইমাম’ (এই ইমামের পেছনে ইকতেদা করছি) অংশটুকু যুক্ত করতে হবে।

চার রাকাত পরপর দোয়া
তারাবি নামাজে প্রতি চার রাকাত অন্তর বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত। আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে এই বিরতির সময় একটি বিশেষ দোয়া পড়ার দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে।

দোয়াটি হলো:
سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَরَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

উচ্চারণ: সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ।

তারাবির শেষ মোনাজাত
পুরো তারাবি নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও জান্নাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাত:
اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ – اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার। ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

পবিত্র রমজান শুরু: জেনে নিন তারাবি নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সিয়াম সাধনার এই মাসে আত্মশুদ্ধির অংশ হিসেবে আজ বুধবার থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এশার নামাজের পর তারাবি আদায় শুরু করবেন। সওয়াব ও মাগফিরাতের আশায় মাসব্যাপী চলবে বিশেষ এই ইবাদত।

তারাবি শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য
আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দটি ‘রাহাতুন’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো বিশ্রাম বা আরাম করা। যেহেতু এই নামাজ দীর্ঘ হয়, তাই মুসল্লিদের ক্লান্তি দূর করতে প্রতি চার রাকাত পরপর বিরতি নিয়ে দোয়া ও তসবিহ পাঠ করা হয়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই একে ‘সালাতুত তারাবিহ’ বলা হয়।

রমজানে তারাবি নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসে তারাবি নামাজ আদায় করবে এবং রোজা রাখবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি)

নামাজের নিয়ম ও নিয়ত
রমজান মাসে এশার ফরজ ও সুন্নাত নামাজের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে তারাবি নামাজ আদায় করতে হয়। তারাবি নামাজের নিয়ত নিচে দেওয়া হলো:

আরবি নিয়ত: نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

যদি জামাতে নামাজ আদায় করা হয়, তবে ‘সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা’ বলার পর ‘ইক্বতাদাইতু বি হাজাল ইমাম’ (এই ইমামের পেছনে ইকতেদা করছি) অংশটুকু যুক্ত করতে হবে।

চার রাকাত পরপর দোয়া
তারাবি নামাজে প্রতি চার রাকাত অন্তর বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত। আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে এই বিরতির সময় একটি বিশেষ দোয়া পড়ার দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে।

দোয়াটি হলো:
سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَরَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

উচ্চারণ: সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ।

তারাবির শেষ মোনাজাত
পুরো তারাবি নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও জান্নাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাত:
اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ – اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার। ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।