ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রহমতের রমজানে তারাবির নামাজ: সওয়াব ও ক্ষমা লাভের অনন্য সুযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য বয়ে আনে অশেষ রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা। এই বরকতময় মাসের অন্যতম বিশেষ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। এশার নামাজের পর আদায় করা এই সুন্নত নামাজটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুশাসনই নয়, বরং এটি আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও অফুরন্ত সওয়াব হাসিলের এক সুবর্ণ সুযোগ। রমজানের প্রতিটি নফল ইবাদত যেখানে ফরজের সওয়াব নিয়ে আসে, সেখানে তারাবির নামাজ মুমিনের জীবনে যোগ করে এক ভিন্ন মাত্রা।

রমজান মাস ইবাদত-বন্দেগির জন্য এক বিশেষ মৌসুম। এই মাসে সম্পাদিত প্রতিটি নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য মাসের একটি ফরজের সমান দেওয়া হয়, আর একটি ফরজের সওয়াব গণ্য করা হয় সত্তরটি ফরজের সমপরিমাণ। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যই রমজানকে অন্যান্য মাস থেকে আলাদা করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানে একটি নফল আমল করল, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল।” (মিশকাত, হাদিস: ১৮৬৮) এই হিসেবে তারাবির নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিও লাভ করেন বিপুল সওয়াব ও আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে এটি আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তারাবির নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা এবং এতে পূর্ণ কোরআন শরিফ খতম করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এর মাধ্যমে মুসল্লিরা পবিত্র কোরআনের বরকত লাভে ধন্য হন। তবে যারা জামাতে অংশ নিতে পারেন না, তারা ঘরে বা মসজিদে সুরা-কেরাতের মাধ্যমে একাকী আদায় করলেও এর সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন না।

তারাবির নামাজের সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো এর মাধ্যমে বান্দার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।” (বুখারি: ২০৪৭) আরেকটি হাদিসে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখেন, তারাবি নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তার জীবনের আগের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে।” (মিশকাত, হাদিস: ১৮৬২) এই হাদিসগুলো তারাবির নামাজের গুরুত্ব ও এর মাধ্যমে অর্জিত ক্ষমা ও মুক্তির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

তারাবির নামাজ রমজান মাসের একটি বিশেষ ইবাদত এবং এটি নারী-পুরুষ উভয়ের ওপরই সুন্নত। তবে পুরুষের জন্য তারাবির জামাত করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়া, অর্থাৎ মহল্লার কিছু মানুষ জামাতে আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। আর নারীরা জামাত ছাড়াই একাকী এই নামাজ আদায় করবেন। রমজান মাসে তারাবি নামাজের মধ্যে একবার পূর্ণ কোরআন খতম করা সুন্নাত হিসেবে বিবেচিত। এই বিশেষ ইবাদতের মাধ্যমে আমরা যেন আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও রহমত লাভে ধন্য হতে পারি, সেই চেষ্টা করা উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

রহমতের রমজানে তারাবির নামাজ: সওয়াব ও ক্ষমা লাভের অনন্য সুযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য বয়ে আনে অশেষ রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা। এই বরকতময় মাসের অন্যতম বিশেষ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। এশার নামাজের পর আদায় করা এই সুন্নত নামাজটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুশাসনই নয়, বরং এটি আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও অফুরন্ত সওয়াব হাসিলের এক সুবর্ণ সুযোগ। রমজানের প্রতিটি নফল ইবাদত যেখানে ফরজের সওয়াব নিয়ে আসে, সেখানে তারাবির নামাজ মুমিনের জীবনে যোগ করে এক ভিন্ন মাত্রা।

রমজান মাস ইবাদত-বন্দেগির জন্য এক বিশেষ মৌসুম। এই মাসে সম্পাদিত প্রতিটি নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য মাসের একটি ফরজের সমান দেওয়া হয়, আর একটি ফরজের সওয়াব গণ্য করা হয় সত্তরটি ফরজের সমপরিমাণ। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যই রমজানকে অন্যান্য মাস থেকে আলাদা করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানে একটি নফল আমল করল, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল।” (মিশকাত, হাদিস: ১৮৬৮) এই হিসেবে তারাবির নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিও লাভ করেন বিপুল সওয়াব ও আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে এটি আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তারাবির নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা এবং এতে পূর্ণ কোরআন শরিফ খতম করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এর মাধ্যমে মুসল্লিরা পবিত্র কোরআনের বরকত লাভে ধন্য হন। তবে যারা জামাতে অংশ নিতে পারেন না, তারা ঘরে বা মসজিদে সুরা-কেরাতের মাধ্যমে একাকী আদায় করলেও এর সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন না।

তারাবির নামাজের সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো এর মাধ্যমে বান্দার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।” (বুখারি: ২০৪৭) আরেকটি হাদিসে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখেন, তারাবি নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তার জীবনের আগের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে।” (মিশকাত, হাদিস: ১৮৬২) এই হাদিসগুলো তারাবির নামাজের গুরুত্ব ও এর মাধ্যমে অর্জিত ক্ষমা ও মুক্তির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

তারাবির নামাজ রমজান মাসের একটি বিশেষ ইবাদত এবং এটি নারী-পুরুষ উভয়ের ওপরই সুন্নত। তবে পুরুষের জন্য তারাবির জামাত করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়া, অর্থাৎ মহল্লার কিছু মানুষ জামাতে আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। আর নারীরা জামাত ছাড়াই একাকী এই নামাজ আদায় করবেন। রমজান মাসে তারাবি নামাজের মধ্যে একবার পূর্ণ কোরআন খতম করা সুন্নাত হিসেবে বিবেচিত। এই বিশেষ ইবাদতের মাধ্যমে আমরা যেন আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও রহমত লাভে ধন্য হতে পারি, সেই চেষ্টা করা উচিত।