রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) এক নারী শিক্ষার্থীর প্রতি যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার তদন্ত কমিটির বৈঠকের পর এই শাস্তির ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সুমন মজুমদার এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই নারী শিক্ষার্থীর প্রতি নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রুয়েটের ডিসিপ্লিনারি অর্ডিন্যান্সের ৬নং ধারা অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সুমন মজুমদারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মাত্রা বিবেচনা করে আরও আটজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে সহযোগিতার অভিযোগে তিন শিক্ষাবর্ষের জন্য এবং উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে, অভিযুক্ত আট শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য হল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার চারিত্রিক সনদ (ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট) প্রদান করবে না বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করেছে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রুয়েট নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে; ক্যাম্পাসে এই ধরনের কোনো আচরণের স্থান নেই।”
রিপোর্টারের নাম 






















