ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণরায় উপেক্ষা: সংবিধান সংস্কারে শপথ বর্জন বিএনপির, গভীর উদ্বেগ ডাকসুর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরত থাকাকে জনগণের প্রত্যক্ষ রায় অগ্রাহ্য করার শামিল বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসু নেতারা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, এটি কেবল গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী নয়, জুলাই সনদে তাদের করা স্বাক্ষরের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে ডাকসু আরও জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সুস্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে দেশের জনগণ সংস্কারের পক্ষে তাদের সুদৃঢ় অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেছে। গণভোটের এই ফলাফল কার্যকর করার প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোকে জনগণের রায়ের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞা হিসেবে দেখছে ছাত্র সংসদ।

সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি হিসেবেই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। ডাকসু স্মরণ করিয়ে দেয়, জনগণের এই অভিপ্রায়ের ফলেই তৎকালীন সরকার পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। পরবর্তীতে বিপ্লবী ছাত্রজনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর প্রণীত হয় ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’। সেই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জারি করা হয় ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ, ২০২৫’। অতঃপর গণভোট অনুষ্ঠিত হলে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়। ডাকসুর মতে, এই পুরো প্রক্রিয়াটিই জনগণের অভিপ্রায়কে ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে।

ডাকসু নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এর ধারা -০৮ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ একইসাথে হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জনরায়কে উপেক্ষা করে শপথ গ্রহণ করেনি।’ তারা আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের যে প্রত্যাশা—স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার—তা বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। বিএনপি জনরায় উপেক্ষা করে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে।

ডাকসু বিএনপির প্রতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। ছাত্র সংসদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ‘যদি তা না হয়, তবে নতুন সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, বিচার এবং নির্বাচন—সবকিছুর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাই আমরা সংবিধানের করণিক ব্যাখ্যা না দিয়ে সংবিধানের মূল ভিত্তি জনগণের অভিপ্রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যখনই কেউ জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার স্বার্থে আমরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কিছুতেই চাই না।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

গণরায় উপেক্ষা: সংবিধান সংস্কারে শপথ বর্জন বিএনপির, গভীর উদ্বেগ ডাকসুর

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরত থাকাকে জনগণের প্রত্যক্ষ রায় অগ্রাহ্য করার শামিল বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসু নেতারা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, এটি কেবল গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী নয়, জুলাই সনদে তাদের করা স্বাক্ষরের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে ডাকসু আরও জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সুস্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে দেশের জনগণ সংস্কারের পক্ষে তাদের সুদৃঢ় অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেছে। গণভোটের এই ফলাফল কার্যকর করার প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোকে জনগণের রায়ের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞা হিসেবে দেখছে ছাত্র সংসদ।

সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি হিসেবেই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। ডাকসু স্মরণ করিয়ে দেয়, জনগণের এই অভিপ্রায়ের ফলেই তৎকালীন সরকার পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। পরবর্তীতে বিপ্লবী ছাত্রজনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর প্রণীত হয় ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’। সেই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জারি করা হয় ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ, ২০২৫’। অতঃপর গণভোট অনুষ্ঠিত হলে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়। ডাকসুর মতে, এই পুরো প্রক্রিয়াটিই জনগণের অভিপ্রায়কে ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে।

ডাকসু নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এর ধারা -০৮ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ একইসাথে হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জনরায়কে উপেক্ষা করে শপথ গ্রহণ করেনি।’ তারা আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের যে প্রত্যাশা—স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার—তা বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। বিএনপি জনরায় উপেক্ষা করে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে।

ডাকসু বিএনপির প্রতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। ছাত্র সংসদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ‘যদি তা না হয়, তবে নতুন সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, বিচার এবং নির্বাচন—সবকিছুর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাই আমরা সংবিধানের করণিক ব্যাখ্যা না দিয়ে সংবিধানের মূল ভিত্তি জনগণের অভিপ্রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যখনই কেউ জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার স্বার্থে আমরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কিছুতেই চাই না।’