দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এক নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রাকে স্বাগত জানাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানার উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ছাত্র নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, “বাঙালির প্রতিটি সংকট ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান—সবখানেই আমাদের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ অনস্বীকার্য। আজকের এই সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশন মূলত সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং একটি বৈষম্যহীন, সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”
আয়োজক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা চেয়েছি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে রাষ্ট্রের এই নতুন যাত্রার অংশীদার হতে। একটি নিরাপদ ও বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সেই স্বপ্নকে ধারণ করেই আজকের এই আয়োজন। আমাদের বিশ্বাস, এই ঐক্যের সুরই আগামী দিনের পথপ্রদর্শক হবে।”
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাতীয় সংগীত আমাদের সবসময় প্রেরণা যুগিয়েছে। ২০২৪-এর বিপ্লবের দিনগুলোতেও এই সুর আমাদের সাহসী করে তুলেছিল। আজ গণতান্ত্রিক নবযাত্রার এই লগ্নে আমরা আবারও শপথ নিলাম একটি সুন্দর দেশ বিনির্মাণের।”
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক শামসুল আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান, প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত সকলেই সমবেত কণ্ঠে ‘আমার সোনার বাংলা’ গেয়ে নতুন বাংলাদেশের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটান।
রিপোর্টারের নাম 






















