ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: ডাকসুর তীব্র প্রতিবাদ, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থার দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ভিন্নমতের ভোটার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হুমকির প্রতিবাদে সরব হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র নেতারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সাম্প্রতিক নির্বাচন-পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, নির্বাচনের পর মূলত দুই ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটছে। একদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যেখানে পরাজিত হয়েছে, সেখানে পরাজয়ের দায় নিজেদের বিদ্রোহী ও অন্য প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, যেখানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)–র প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এসব সহিংসতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন; এমনকি নয় বছরের শিশুও হামলার শিকার হয়েছে। নির্বাচনের পর সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এস এম ফরহাদ উল্লেখ করেন, সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৬৩টি আসনে বিজয়ী হলেও নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে এমন তাৎক্ষণিক সহিংসতার চিত্র দেখা যায়নি। অথচ এবারের নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর আসছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, এসব ঘটনার বিষয়ে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বক্তব্য আসেনি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকারও অভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জোটের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও আক্রমণের রাজনীতি যেন পুনরায় চালু না করা না হয়।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যেন নষ্ট না হয়। হামলা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি জানান, নির্বাচন–পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার নথিপত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তা শিগগিরই গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হবে।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর একটি নতুন ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আশা ছিল। কিন্তু নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে আবারও সহিংসতা, হামলা ও হুমকির ঘটনা দেখা যাচ্ছে। তিনি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল মহলের প্রতি আহ্বান জানান এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কাউকে ভয় পাবেন না। আমরা ইতোমধ্যে ডাকসুর পক্ষ থেকে অফিসিয়াল পেইজে ঘোষণা দিয়েছি। আইন ও মানবাধিকার সম্পাদকের যোগাযোগ নম্বর ও ই-মেইল দেওয়া হয়েছে। কেউ হুমকি পেলে অভিযোগ জানাবেন। দেশীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান রাজধানীতে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, সীমান্তে চরম উত্তেজনা

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: ডাকসুর তীব্র প্রতিবাদ, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থার দাবি

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ভিন্নমতের ভোটার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হুমকির প্রতিবাদে সরব হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র নেতারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সাম্প্রতিক নির্বাচন-পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, নির্বাচনের পর মূলত দুই ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটছে। একদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যেখানে পরাজিত হয়েছে, সেখানে পরাজয়ের দায় নিজেদের বিদ্রোহী ও অন্য প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, যেখানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)–র প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এসব সহিংসতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন; এমনকি নয় বছরের শিশুও হামলার শিকার হয়েছে। নির্বাচনের পর সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এস এম ফরহাদ উল্লেখ করেন, সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৬৩টি আসনে বিজয়ী হলেও নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে এমন তাৎক্ষণিক সহিংসতার চিত্র দেখা যায়নি। অথচ এবারের নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর আসছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, এসব ঘটনার বিষয়ে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বক্তব্য আসেনি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকারও অভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জোটের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও আক্রমণের রাজনীতি যেন পুনরায় চালু না করা না হয়।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যেন নষ্ট না হয়। হামলা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি জানান, নির্বাচন–পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার নথিপত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তা শিগগিরই গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হবে।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর একটি নতুন ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আশা ছিল। কিন্তু নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে আবারও সহিংসতা, হামলা ও হুমকির ঘটনা দেখা যাচ্ছে। তিনি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল মহলের প্রতি আহ্বান জানান এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কাউকে ভয় পাবেন না। আমরা ইতোমধ্যে ডাকসুর পক্ষ থেকে অফিসিয়াল পেইজে ঘোষণা দিয়েছি। আইন ও মানবাধিকার সম্পাদকের যোগাযোগ নম্বর ও ই-মেইল দেওয়া হয়েছে। কেউ হুমকি পেলে অভিযোগ জানাবেন। দেশীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”