ঢাকা ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: বিএনপি’র বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির কঠোর হুঁশিয়ারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর হামলার অভিযোগ তুলে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির নেতারা বিএনপির বিরুদ্ধে জনরায় অসম্মান এবং দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ আনেন, একইসাথে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর এবং ঢাবি শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, বিএনপি জনগণের রায়কে সম্মান জানাবে বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তারা সেই রায়ের প্রতি চরম অসম্মান ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে।

জাহিদ আহসান আরও জানান, বিএনপি কোথায় কোথায় সহিংসতা চালাচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ জাতীয় ছাত্রশক্তি সংগ্রহ করছে। দেশের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে বিএনপি’র সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম তথ্যচিত্র ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে একজন কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটি নতুন কিছু নয়। গত দেড় বছরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আড়াইশোর বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। নির্বাচনের পর গতকাল থেকেই সেই ধারা আবার শুরু হয়েছে। জাহিদ আহসান বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বিএনপির যে নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিংবা গত দেড় বছরে যে আড়াইশো নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, প্রতিটি হত্যার নিন্দা জানাই এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাস্সির বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়া মাহফিলের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তাদের এই ঘোষণা ও কার্যক্রমের মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকায় তারা দোয়া মাহফিল করে, আর রংপুর ও পঞ্চগড়ে তৃণমূল পর্যায়ে ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। একদিকে দোয়া মাহফিল, অন্যদিকে মানুষের জায়গা-জমি ও বাড়িঘর দখল—এটাই এখন তাদের রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে যখন মানুষ শোকরানা নামাজ আদায় করছিল, তখন বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় জমি ও ঘরবাড়ি দখলে ব্যস্ত ছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে মিলাদ-মাহফিলের ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়ভাবে ঘরবাড়ি পোড়ানো ও দখলের রাজনীতি চলছে।

নির্বাচনকালীন সহিংসতার বিচার না হওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের বিচার না হওয়ায় পরবর্তীতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপরও হামলা হয়েছে। বাগেরহাট, বরগুনাসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ চালানো হলেও দলটির হাইকমান্ড পুরোপুরি নিশ্চুপ রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলসহ বিএনপির দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের নেতাকর্মীরা এসব ঘটনাকে গুজব প্রমাণের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক গণমাধ্যম হামলাকে ‘সংঘর্ষ’ হিসেবে তুলে ধরছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তাহমিদ আল মুদাস্সির আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিএনপি হামলা চালানোর পরও তাদের রক্ষা করতে বিভিন্ন গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে আমরা নতুন আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্মের আশঙ্কা করছি। আমরা নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ বা নতুন দানব দেখতে চাই না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান রাজধানীতে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, সীমান্তে চরম উত্তেজনা

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: বিএনপি’র বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির কঠোর হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর হামলার অভিযোগ তুলে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির নেতারা বিএনপির বিরুদ্ধে জনরায় অসম্মান এবং দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ আনেন, একইসাথে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর এবং ঢাবি শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, বিএনপি জনগণের রায়কে সম্মান জানাবে বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তারা সেই রায়ের প্রতি চরম অসম্মান ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে।

জাহিদ আহসান আরও জানান, বিএনপি কোথায় কোথায় সহিংসতা চালাচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ জাতীয় ছাত্রশক্তি সংগ্রহ করছে। দেশের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে বিএনপি’র সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম তথ্যচিত্র ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে একজন কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটি নতুন কিছু নয়। গত দেড় বছরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আড়াইশোর বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। নির্বাচনের পর গতকাল থেকেই সেই ধারা আবার শুরু হয়েছে। জাহিদ আহসান বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বিএনপির যে নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিংবা গত দেড় বছরে যে আড়াইশো নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, প্রতিটি হত্যার নিন্দা জানাই এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাস্সির বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়া মাহফিলের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তাদের এই ঘোষণা ও কার্যক্রমের মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকায় তারা দোয়া মাহফিল করে, আর রংপুর ও পঞ্চগড়ে তৃণমূল পর্যায়ে ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। একদিকে দোয়া মাহফিল, অন্যদিকে মানুষের জায়গা-জমি ও বাড়িঘর দখল—এটাই এখন তাদের রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে যখন মানুষ শোকরানা নামাজ আদায় করছিল, তখন বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় জমি ও ঘরবাড়ি দখলে ব্যস্ত ছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে মিলাদ-মাহফিলের ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়ভাবে ঘরবাড়ি পোড়ানো ও দখলের রাজনীতি চলছে।

নির্বাচনকালীন সহিংসতার বিচার না হওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের বিচার না হওয়ায় পরবর্তীতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপরও হামলা হয়েছে। বাগেরহাট, বরগুনাসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ চালানো হলেও দলটির হাইকমান্ড পুরোপুরি নিশ্চুপ রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলসহ বিএনপির দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের নেতাকর্মীরা এসব ঘটনাকে গুজব প্রমাণের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক গণমাধ্যম হামলাকে ‘সংঘর্ষ’ হিসেবে তুলে ধরছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তাহমিদ আল মুদাস্সির আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিএনপি হামলা চালানোর পরও তাদের রক্ষা করতে বিভিন্ন গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে আমরা নতুন আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্মের আশঙ্কা করছি। আমরা নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ বা নতুন দানব দেখতে চাই না।