ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় বাড়ছে সোনার দাম: বিশ্ববাজারে কীভাবে নির্ধারিত হয় এই মূল্যবান ধাতুর মূল্য?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

গত এক বছর ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দামে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির মতো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত সোনার দিকে ঝুঁকে পড়তে উৎসাহিত করছে। এর ফলে, মূল্যবান এই ধাতুর প্রতি সামগ্রিক আকর্ষণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিশ্বজুড়ে সোনার এই দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়? এর পেছনে কাজ করে কোন কোন জটিল সমীকরণ?

মূল্যবান ধাতু যেমন সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের ওজন পরিমাপের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ‘ট্রয় আউন্স’ নামক এককটি ব্যবহৃত হয়। এক ট্রয় আউন্স প্রায় ৩১.১০৩৫ গ্রামের সমান। উদাহরণস্বরূপ, যদি প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলার হয়, তবে ১ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৬০ ডলার। এই হিসাবে, এক কেজি ওজনের সোনার বারের দাম হয় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। উল্লেখ্য, সাধারণ পণ্যের ওজন মাপার জন্য ব্যবহৃত ‘সাধারণ আউন্স’ (যা প্রায় ২৮.৩৫ গ্রাম) থেকে ট্রয় আউন্সের হিসাব ভিন্ন।

দেশের বাজারে যখন সোনার দাম বাড়ে বা কমে, তখন সংবাদে প্রায়শই বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়। এই ‘ক্যারেট’ হলো সোনার বিশুদ্ধতার মানদণ্ড। ২৪ ক্যারেট সোনাকে খাঁটি সোনা হিসেবে ধরা হয়। ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট বা সনাতনী পদ্ধতির সোনা মূলত রুপা, তামা বা দস্তার মতো কম দামি ধাতুর সঙ্গে মিশ্রিত থাকে। এছাড়া, ১৪ ক্যারেট (৫৮.৩ শতাংশ বিশুদ্ধ) ও ১০ ক্যারেট (৪১.৭ শতাংশ বিশুদ্ধ) সোনাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত। গয়নার দাম সাধারণত সেদিনের সোনার স্পট মূল্য, তৈরির খরচ এবং প্রযোজ্য করের ওপর নির্ভর করে। গ্রাহকরা পণ্যের সঠিক ওজন ও ক্যারেট সম্পর্কে ধারণা রাখলে মূল দামের সঙ্গে কারিগরি খরচ যোগ করে হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন। স্পট মার্কেটে সোনার দাম নিয়ে দর-কষাকষি সম্ভব না হলেও, তৈরির খরচ নিয়ে অনেক সময় দরদাম করা যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো প্রধান এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার স্পট মূল্য মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থানীয় বাজারে এই আন্তর্জাতিক দামকে দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন ব্যয় এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রিমিয়াম। কোন দেশের বাজারে সোনার দাম কত হবে, তার সঙ্গে সেই দেশের শুল্কনীতির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। যেমন, ভারতের বাজারে সোনা ক্রয়ে ৩ শতাংশ জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) আরোপ করা হয়, যেখানে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কিনতে কোনো কর দিতে হয় না। বিভিন্ন দেশে স্থানীয় বৈশিষ্ট্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অনুযায়ী নিজস্ব স্বর্ণমুদ্রা ও বার তৈরি হয়, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ইগল, চীনের গোল্ড পান্ডা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার করুগারর‌্যান্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সোনার মজুত উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা সংগ্রহের প্রবণতাও বিশ্ববাজারে সোনার দাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সোনা মজুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, যার পরিমাণ ৮ হাজার ১৩৩ টন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি, তাদের মজুত ৩ হাজার ৩৫০ টন। আর ২ হাজার ৪৫১ টন সোনা নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ইতালি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় বাড়ছে সোনার দাম: বিশ্ববাজারে কীভাবে নির্ধারিত হয় এই মূল্যবান ধাতুর মূল্য?

আপডেট সময় : ০৬:০৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত এক বছর ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দামে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির মতো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত সোনার দিকে ঝুঁকে পড়তে উৎসাহিত করছে। এর ফলে, মূল্যবান এই ধাতুর প্রতি সামগ্রিক আকর্ষণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিশ্বজুড়ে সোনার এই দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়? এর পেছনে কাজ করে কোন কোন জটিল সমীকরণ?

মূল্যবান ধাতু যেমন সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের ওজন পরিমাপের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ‘ট্রয় আউন্স’ নামক এককটি ব্যবহৃত হয়। এক ট্রয় আউন্স প্রায় ৩১.১০৩৫ গ্রামের সমান। উদাহরণস্বরূপ, যদি প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলার হয়, তবে ১ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৬০ ডলার। এই হিসাবে, এক কেজি ওজনের সোনার বারের দাম হয় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। উল্লেখ্য, সাধারণ পণ্যের ওজন মাপার জন্য ব্যবহৃত ‘সাধারণ আউন্স’ (যা প্রায় ২৮.৩৫ গ্রাম) থেকে ট্রয় আউন্সের হিসাব ভিন্ন।

দেশের বাজারে যখন সোনার দাম বাড়ে বা কমে, তখন সংবাদে প্রায়শই বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়। এই ‘ক্যারেট’ হলো সোনার বিশুদ্ধতার মানদণ্ড। ২৪ ক্যারেট সোনাকে খাঁটি সোনা হিসেবে ধরা হয়। ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট বা সনাতনী পদ্ধতির সোনা মূলত রুপা, তামা বা দস্তার মতো কম দামি ধাতুর সঙ্গে মিশ্রিত থাকে। এছাড়া, ১৪ ক্যারেট (৫৮.৩ শতাংশ বিশুদ্ধ) ও ১০ ক্যারেট (৪১.৭ শতাংশ বিশুদ্ধ) সোনাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত। গয়নার দাম সাধারণত সেদিনের সোনার স্পট মূল্য, তৈরির খরচ এবং প্রযোজ্য করের ওপর নির্ভর করে। গ্রাহকরা পণ্যের সঠিক ওজন ও ক্যারেট সম্পর্কে ধারণা রাখলে মূল দামের সঙ্গে কারিগরি খরচ যোগ করে হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন। স্পট মার্কেটে সোনার দাম নিয়ে দর-কষাকষি সম্ভব না হলেও, তৈরির খরচ নিয়ে অনেক সময় দরদাম করা যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো প্রধান এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার স্পট মূল্য মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থানীয় বাজারে এই আন্তর্জাতিক দামকে দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন ব্যয় এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রিমিয়াম। কোন দেশের বাজারে সোনার দাম কত হবে, তার সঙ্গে সেই দেশের শুল্কনীতির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। যেমন, ভারতের বাজারে সোনা ক্রয়ে ৩ শতাংশ জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) আরোপ করা হয়, যেখানে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কিনতে কোনো কর দিতে হয় না। বিভিন্ন দেশে স্থানীয় বৈশিষ্ট্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অনুযায়ী নিজস্ব স্বর্ণমুদ্রা ও বার তৈরি হয়, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ইগল, চীনের গোল্ড পান্ডা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার করুগারর‌্যান্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সোনার মজুত উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা সংগ্রহের প্রবণতাও বিশ্ববাজারে সোনার দাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সোনা মজুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, যার পরিমাণ ৮ হাজার ১৩৩ টন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি, তাদের মজুত ৩ হাজার ৩৫০ টন। আর ২ হাজার ৪৫১ টন সোনা নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ইতালি।