প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য মোট ৪০ হাজার ২৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ৬ হাজার ৫১০ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
এবারের বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ‘জলবায়ু সহিষ্ণু গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও সংরক্ষণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে টেকসই পল্লী উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবি সম্পর্কিত সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।
বাজেট নথির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বিভাগের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ২৪২ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। সেই তুলনায় আগামী নতুন অর্থবছরে গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের এই মেগা খাতে বরাদ্দ কিছুটা কমছে। হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় স্থানীয় সরকার বিভাগে এবার ৩,৯৯৬ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ কমেছে। তবে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ কার্যক্রম’ বাস্তবায়নের বড় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে।
এর আওতায় নতুন পানির উৎস স্থাপন, গ্রামীণ পাইপ ওয়াটার স্কিম, উৎপাদক নলকূপ স্থাপন, পানির পাইপ লাইন ও পানি শোধনাগার নির্মাণসহ উচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে আর্সেনিক মিটিগেশন কার্যক্রম এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। বাজেটে আগামী অর্থবছরে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একগুচ্ছ বিশেষ কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পল্লী সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ ও সংরক্ষণ। একই সঙ্গে গ্রামীণ হাট-বাজারের আধুনিকায়ন, পুকুর ও খাল খননের মাধ্যমে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমকে বিশেষ গতি দেওয়া হবে।
সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের অবকাঠামো নির্মাণসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মেরামত, নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বাজেট নথিতে আরো জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও নির্ভুল করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 























