দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের ভারতীয় আধিপত্য নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তায় এই প্রভাব ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি করা পোশাক মার্কিন বাজারে রপ্তানি করলে মিলবে বিশেষ শুল্কমুক্ত সুবিধা।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কাঁচামাল বা তুলার বড় একটি অংশ এতদিন ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ভারত থেকে তুলা সংগ্রহ করে তা দিয়ে সুতা ও কাপড় তৈরি করে পশ্চিমা বাজারে রপ্তানি করা হতো। তবে নতুন এই চুক্তির ফলে ভারতীয় তুলার ওপর বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সেই নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পাদিত এই চুক্তিতে উভয় দেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুযোগ রাখা হয়েছে। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কহার কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এর বাইরে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে উৎপাদিত পোশাক পুনরায় মার্কিন বাজারে রপ্তানি করা হলে তাতে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে না।
রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি কৌশলে একটি মৌলিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এতদিন ভারতসহ বিভিন্ন তৃতীয় দেশ থেকে তুলা সংগ্রহ করে পোশাক তৈরি করা হলেও এখন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল এনে সেই বাজারেই শুল্ক ছাড়ে পণ্য পাঠানোর পথ প্রশস্ত হলো। এতে সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) একটি কৌশলগত সমন্বয় ঘটবে, যা দেশের বস্ত্র খাতকে বাণিজ্যিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে।
দেশের টেক্সটাইল মিল মালিকরা বলছেন, ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারতীয় তুলা এক সময় সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মনে হলেও গত কয়েক বছরে ভারতের অস্থির রপ্তানি নীতি তাদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ভারত সরকার বারবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, কোটা আরোপ ও হুটহাট নীতি পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের মিলগুলোতে কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতো। এছাড়া ভারতীয় তুলার গুণগত মান ও দামের অস্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্যোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে মিলগুলো এখন একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প উৎস খুঁজে পেল, যা ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রণের একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করবে।
রিপোর্টারের নাম 

























