ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সংস্কারের ১৬ মাস: খতিয়ান দিলেন উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

স্বৈরাচার-পরবর্তী বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুনির্দিষ্ট সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত ১৬ মাসে তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও অর্জনের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি দেখতে পান নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় উভয়ই কাঠামোগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ছিল। কর্মপরিকল্পনাগুলোতে ছিল চরম অসামঞ্জস্য। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গত ১৬ মাসে তিনি মন্ত্রণালয়ের কাঠামো পুনর্গঠন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। যার সুফল দেশের মানুষ ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শারমীন এস মুরশিদ বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধে ‘পাশে আছে’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে ভুক্তভোগীরা এখন দ্রুততম সময়ে আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সিলিং সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া জুলাই বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের (জুলাই কন্যা) শনাক্তকরণ, তাদের জীবনগাথা সংরক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি বিজ্ঞানসম্মত ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।

রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ‘জেন্ডার সমতা উৎকর্ষ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত খসড়া আইন অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং পারিবারিক সহিংসতা দমনে ‘২০২৬ সালের অধ্যাদেশ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনগুলো নারী ও শিশুর মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

সমাজকল্যাণ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে ভাতাভোগীদের ভাতার পরিমাণ ও পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ক্যানসার আক্রান্ত রোগী, মাদ্রাসার দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নারী ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত ১৬ মাসে যে সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন তারা এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমেই সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় দেশে এক কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সংস্কারের ১৬ মাস: খতিয়ান দিলেন উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ

আপডেট সময় : ০৯:২২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বৈরাচার-পরবর্তী বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুনির্দিষ্ট সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত ১৬ মাসে তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও অর্জনের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি দেখতে পান নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় উভয়ই কাঠামোগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ছিল। কর্মপরিকল্পনাগুলোতে ছিল চরম অসামঞ্জস্য। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গত ১৬ মাসে তিনি মন্ত্রণালয়ের কাঠামো পুনর্গঠন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। যার সুফল দেশের মানুষ ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শারমীন এস মুরশিদ বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধে ‘পাশে আছে’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে ভুক্তভোগীরা এখন দ্রুততম সময়ে আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সিলিং সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া জুলাই বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের (জুলাই কন্যা) শনাক্তকরণ, তাদের জীবনগাথা সংরক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি বিজ্ঞানসম্মত ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।

রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ‘জেন্ডার সমতা উৎকর্ষ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত খসড়া আইন অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং পারিবারিক সহিংসতা দমনে ‘২০২৬ সালের অধ্যাদেশ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনগুলো নারী ও শিশুর মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

সমাজকল্যাণ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে ভাতাভোগীদের ভাতার পরিমাণ ও পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ক্যানসার আক্রান্ত রোগী, মাদ্রাসার দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নারী ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত ১৬ মাসে যে সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন তারা এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমেই সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় দেশে এক কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত হবে।