ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করেননি বলে স্পষ্ট করেছেন। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে পুনরায় শিক্ষকতায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, উপাচার্যের পদটি তিনি একটি ‘আমানত’ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং কোনো প্রশাসনিক শূন্যতা বা অচলাবস্থা তৈরি করা তার উদ্দেশ্য নয়। তিনি জানান, নির্বাচনের পর একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে তারা যেন নিজেদের পছন্দমতো প্রশাসন সাজাতে পারে, সেই সুযোগ দিতেই তিনি সরে যেতে চান। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে অন্তর্বর্তীকালীন সময় বা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে রাজি আছেন, যাতে প্রশাসনিক কাজে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে এক বিশেষ ও নাজুক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তিনি এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। গত দেড় বছরে সকলের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় এখন একটি ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। আপদকালীন সেই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠেছি। এখন আমি আমার মূল কর্মস্থল উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের পদে ফিরতে চাই।” এজন্য তিনি রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বরাবর দ্রুতই আবেদন জানাবেন বলে জানান।
দায়িত্ব পালনকালে নিজের অর্জনের কথা তুলে ধরে ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হল সংসদগুলো কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে; বিশেষ করে টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাঙ্কিংয়ে প্রায় ২০০ ধাপ অগ্রগতি, বিদেশি শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও প্রকাশনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, আজ দুপুর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সেই বিভ্রান্তি দূর করে বলেন, “আমি পদত্যাগ করিনি, বরং নির্বাচনের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আমার অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেছি। দীর্ঘদিনের এই কঠিন পরিশ্রমের পর এখন আমার কিছুটা বিশ্রামের প্রয়োজন।” উপাচার্য আরও যোগ করেন, সরকার তার ডেপুটেশন প্রত্যাহার করে নিলেই তিনি তার প্রিয় শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যাবেন।
রিপোর্টারের নাম 

























