ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক: নীতি সুদহার অপরিবর্তিত, বেসরকারি ঋণে নজর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের বাজারে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য ঘোষিত এই মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি দমনের লক্ষ্য থাকলেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং বাজারে অর্থের জোগান বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ সময় ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান মুদ্রানীতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাসের প্রবণতা দেখা গেলেও বাজার পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে সুদহার কমানো হলে স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে। এছাড়া আসন্ন রমজান মাস, জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাবে জনমানুষের ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়া অর্থনীতির অন্যান্য প্রায় সব সূচকেই মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, আশানুরূপভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সফল হয়েছে। গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হবে, তবে মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত নীতি সুদহার কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা জানুয়ারি মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে। সামনের মাসগুলোতে বিশেষ করে রোজা ও নির্বাচনের প্রভাবে এটি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই নীতি সুদহার ১০ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে, যা গত বছরের অক্টোবর থেকেই কার্যকর রয়েছে।

এদিকে, মুদ্রাবাজারে অর্থের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ‘স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি’ (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গভর্নর জানান, বাজারে টাকার জোগান কিছুটা বাড়িয়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় না অর্থ অলস পড়ে থাকুক, বরং তা যেন উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হয়।

সামগ্রিকভাবে, নতুন এই মুদ্রানীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতি দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক: নীতি সুদহার অপরিবর্তিত, বেসরকারি ঋণে নজর

আপডেট সময় : ০১:৪০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বাজারে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য ঘোষিত এই মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি দমনের লক্ষ্য থাকলেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং বাজারে অর্থের জোগান বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ সময় ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান মুদ্রানীতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাসের প্রবণতা দেখা গেলেও বাজার পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে সুদহার কমানো হলে স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে। এছাড়া আসন্ন রমজান মাস, জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাবে জনমানুষের ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়া অর্থনীতির অন্যান্য প্রায় সব সূচকেই মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, আশানুরূপভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সফল হয়েছে। গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হবে, তবে মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত নীতি সুদহার কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা জানুয়ারি মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে। সামনের মাসগুলোতে বিশেষ করে রোজা ও নির্বাচনের প্রভাবে এটি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই নীতি সুদহার ১০ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে, যা গত বছরের অক্টোবর থেকেই কার্যকর রয়েছে।

এদিকে, মুদ্রাবাজারে অর্থের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ‘স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি’ (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গভর্নর জানান, বাজারে টাকার জোগান কিছুটা বাড়িয়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় না অর্থ অলস পড়ে থাকুক, বরং তা যেন উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হয়।

সামগ্রিকভাবে, নতুন এই মুদ্রানীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতি দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।