দেশের ১২ কোটি মানুষের প্রত্যাশা ও দীর্ঘ ১৬ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ৪ কোটি তরুণ ভোটারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রনেতা সাদিক কায়েম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণকারী এই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে বাংলাদেশে আর কোনো ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ইসির সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ হিসেবে বর্ণনা করেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, নির্বাচন একটি উৎসবের আমেজ বয়ে আনে। কিন্তু সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সংকুচিত করতে ২০১৮ সালের ধাঁচে এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমাদের আপত্তির মুখে কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুতই নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিএনসিসি-কে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডাকসু ভিপি বলেন, বিএনসিসি একটি সুসংগঠিত ও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল বাহিনী। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পেশাদারিত্ব ও আচরণ অন্যান্য বাহিনীর চেয়েও উন্নত। আমরা তাদের পুনরায় নির্বাচনী দায়িত্বে ফেরানোর দাবি জানিয়েছি। কমিশন আইনি কিছু সীমাবদ্ধতার কথা বললেও বিষয়টি পুনরায় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের ওপর হামলা, বিশেষ করে নারী প্রার্থীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের নির্লিপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই ছাত্রনেতা। তিনি বলেন, সারা দেশে ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে, তা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই, যেখানে দিনশেষে গণতন্ত্রের জয় হবে।
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের উত্তরসূরি হিসেবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা আবু সাঈদ ও শহীদ উসমান হাদির উত্তরসূরি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আমাদের সজাগ দৃষ্টি থাকবে। কারা কারচুপির চেষ্টা করছে বা কারা নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছে—সবকিছুর তথ্য-প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করছি। কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তিকে আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে দেব না।”
রিপোর্টারের নাম 

























