বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আইন সংশোধনের উদ্যোগ বাতিল করায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা। সোমবার (১১ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক চত্বরে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এ দাবি জানানো হয়।
বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনি কাঠামো সুসংহত করতে গত অক্টোবর মাসের শুরুতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ সংশোধনের একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সেই প্রস্তাবটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি নিজেই স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। অথচ এখন তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবটি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তার এই দ্বিমুখী আচরণের প্রতিবাদে আমরা তার পদত্যাগ চাই। নীতিগত অবস্থানের এই পরিবর্তনের দায় নিয়ে তিনি যদি একদিনের জন্যও পদত্যাগ করেন, সেটিই হবে আমাদের নৈতিক বিজয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ এক লিখিত বক্তব্যে জানান, আর্থিক খাতের সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপরিহার্য। এই লক্ষ্যেই অর্থ উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি রহস্যজনকভাবে উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এতে সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সভায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের ইশতেহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমতাবস্থায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এই সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি। আগামী ১২ নভেম্বর কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সাধারণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলনের পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























