আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৬১ জন শিক্ষক। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা হ্রাস এবং ভোটাধিকারের প্রতি জনগণের আস্থার সংকট দূর করে একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা এই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার ফলে বাংলাদেশ আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হওয়ায় গণতন্ত্র কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে। একটি বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়েই মূলত এই ভোট চাওয়া হয়েছে।
শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, যা ভোটাধিকারকে সীমিত করেছে এবং জনগণকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারমূলক প্রস্তাবনা, বিশেষ করে ৩১ দফার প্রশংসা করা হয়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং প্রশাসনিক সংস্কার একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নারী ও যুব সমাজের ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এটিকে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের রূপরেখা হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এই অবস্থান বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে মুক্তবুদ্ধির চর্চা, গবেষণা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ সংকুচিত হচ্ছে এবং মতভিন্নতার প্রতি অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
রিপোর্টারের নাম 

























