দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের প্রার্থী। ফ্যাসিবাদের কারণে দেশ অনেক দূর পিছিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি আসন্ন নির্বাচনে ফ্যাসিবাদ লালনকারীদের রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।
গত রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ পৌরশহরের সাহাপুর মাঠে দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশে সৎ, দক্ষ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ছাড়া জনগণের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। তিনি ইসলামভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে শোষণ, দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম তুলে ধরেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে সকল ধর্মের অনুসারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ কারণে তারা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুতে বিশ্বাস করেন না, বরং সবাইকে সমান মনে করেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের লোকজন কখনো অন্য ধর্মের লোকের ওপর আক্রমণ করে না, কারো বাড়িঘর দখল করে না বা কারো ওপর নির্যাতন চালায় না। নারী বিদ্বেষী নন দাবি করে তিনি বলেন, নারীরা তাদের কাছে পবিত্র আমানত।
অন্য একটি দলের সমালোচনা করে এটিএম আজহার বলেন, ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করে তারা এখনই রাস্তাঘাটে নারীদের হেনস্থা করছেন, বোরকা খুলে নিচ্ছেন এবং পেটে লাথি মারছেন। তারাই আবার বলছেন নারীরা নাকি তাদের কাছে নিরাপদ, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। নারীরা কখনো তাদের কাছে নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে এবং হুমকি প্রদান করছে। তবে হুমকি-ধমকি ও আক্রমণ করে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তাকে স্তব্ধ করা যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণ আর হুমকিতে ভয় পায় না। এই দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হতে দেওয়া হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে সংসদ গঠনে সহায়তা করবে। নির্বাচিত হলে তারা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।
হিন্দুধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে এটিএম আজহার বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চায়। এ কারণে এবার দু’জন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নির্বাচিত হয়ে হিন্দুদের পক্ষে তাদের অধিকার আদায়ে সংসদে সোচ্চার হতে পারেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি প্রতিপক্ষের কোনো ধরণের উস্কানিতে কান না দিয়ে এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচনি শৃঙ্খলা বিনষ্ট না হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সকালে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর নির্বাচন গণনা না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করারও নির্দেশ দেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 

























