ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

একরামুল হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র: বিগত সরকারের আমলে র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ার’ বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়

টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলো নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এই মামলায় তৎকালীন র‍্যাব-৭ অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তার দায়িত্বকালীন ‘ক্রসফায়ার’ ঘটনাগুলো আবারও জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত র‍্যাব-৭-এর অভিযানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ফেনীতে অন্তত ১৪ জন নিহত হন। সে সময় র‍্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তারা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বরাবরই অভিযোগ করা হয়, তাদের আগে আটক করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হককে গুলিবিদ্ধ করার কথা জানায় র‍্যাব। বাহিনী তাকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি দাবি করে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে কয়েকদিন পর একরামুলের পরিবারের সংরক্ষিত একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তার শেষ কথোপকথন এবং গুলির শব্দ শোনা যায়। এই অডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ঘটনাটির তদন্তের দাবি জানায়। একরামুলের পরিবার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে এটি কোনো বন্দুকযুদ্ধ ছিল না, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম দীর্ঘ আট বছর ধরে তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আসছেন। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, “আট বছর ধরে তিনি শুধু একটি দিনের অপেক্ষায় ছিলেন, যেদিন তার স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া সত্যিকার অর্থে শুরু হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরামুল হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল এবং ঘটনার সময় র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার খবর তার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।” একরামুল হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর শুধু এই ঘটনাই নয়, বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া একই ধরনের অন্যান্য ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা: নিহত ৮

একরামুল হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র: বিগত সরকারের আমলে র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ার’ বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়

আপডেট সময় : ১০:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলো নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এই মামলায় তৎকালীন র‍্যাব-৭ অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তার দায়িত্বকালীন ‘ক্রসফায়ার’ ঘটনাগুলো আবারও জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত র‍্যাব-৭-এর অভিযানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ফেনীতে অন্তত ১৪ জন নিহত হন। সে সময় র‍্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তারা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বরাবরই অভিযোগ করা হয়, তাদের আগে আটক করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হককে গুলিবিদ্ধ করার কথা জানায় র‍্যাব। বাহিনী তাকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি দাবি করে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে কয়েকদিন পর একরামুলের পরিবারের সংরক্ষিত একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তার শেষ কথোপকথন এবং গুলির শব্দ শোনা যায়। এই অডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ঘটনাটির তদন্তের দাবি জানায়। একরামুলের পরিবার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে এটি কোনো বন্দুকযুদ্ধ ছিল না, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম দীর্ঘ আট বছর ধরে তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আসছেন। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, “আট বছর ধরে তিনি শুধু একটি দিনের অপেক্ষায় ছিলেন, যেদিন তার স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া সত্যিকার অর্থে শুরু হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরামুল হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল এবং ঘটনার সময় র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার খবর তার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।” একরামুল হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর শুধু এই ঘটনাই নয়, বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া একই ধরনের অন্যান্য ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।