ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জুলাইয়ের গণআন্দোলন: নির্বাচনের চেয়েও গভীর প্রত্যাশা

জুলাইয়ের আন্দোলন নিছক সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনীতি ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে জনগণের এক গভীর প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস এবং অংশগ্রহণ সেই আন্দোলনকে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা এনে দিয়েছিল। তাই আজ যখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে কেবল নির্বাচন, সরকার গঠন কিংবা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্থান পাচ্ছে, তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা কি সত্যিই কেবল নির্বাচন ছিল?

যদি কোনো রাষ্ট্রে বিচারহীনতা, দুর্নীতি, প্রশাসনের দলীয়করণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জবাবদিহির সংকট অক্ষুণ্ণ থাকে, তবে শুধু ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন সেই রাষ্ট্রকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। জুলাইয়ের আন্দোলনে মানুষ কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি, তারা চেয়েছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। সেই অর্থে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন।

সংসদে কোনো দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করলেই ধরে নেওয়া যায় না যে দেশের সকল জনগণ সেই দলের প্রতি পূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে, একটি আসনে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী জয়ী হন, যদিও তিনি মোট ভোটের অর্ধেকেরও কম পেতে পারেন। এর ফলে, জাতীয়ভাবে একটি দল মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক বা তারও কম ভোট পেয়ে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসন লাভ করতে পারে। এটি আইনত বৈধ হলেও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে একটি সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।

এই বাস্তবতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জনগণের পূর্ণ রাজনৈতিক সম্মতি এক বিষয় নয়। নির্বাচন সরকার গঠনের অধিকার দেয়, কিন্তু জনগণের সকল আকাঙ্ক্ষার একচ্ছত্র প্রতিনিধি হওয়ার নৈতিক অধিকার তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেয় না।

একটি রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন হতে হবে, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যদি নির্বাচনের পর বিস্মৃত হয়, তবে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে না। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কর্মসংস্থান…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে উদ্বেগ

জুলাইয়ের গণআন্দোলন: নির্বাচনের চেয়েও গভীর প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ১২:০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জুলাইয়ের আন্দোলন নিছক সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনীতি ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে জনগণের এক গভীর প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস এবং অংশগ্রহণ সেই আন্দোলনকে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা এনে দিয়েছিল। তাই আজ যখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে কেবল নির্বাচন, সরকার গঠন কিংবা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্থান পাচ্ছে, তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা কি সত্যিই কেবল নির্বাচন ছিল?

যদি কোনো রাষ্ট্রে বিচারহীনতা, দুর্নীতি, প্রশাসনের দলীয়করণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জবাবদিহির সংকট অক্ষুণ্ণ থাকে, তবে শুধু ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন সেই রাষ্ট্রকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। জুলাইয়ের আন্দোলনে মানুষ কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি, তারা চেয়েছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। সেই অর্থে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন।

সংসদে কোনো দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করলেই ধরে নেওয়া যায় না যে দেশের সকল জনগণ সেই দলের প্রতি পূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে, একটি আসনে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী জয়ী হন, যদিও তিনি মোট ভোটের অর্ধেকেরও কম পেতে পারেন। এর ফলে, জাতীয়ভাবে একটি দল মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক বা তারও কম ভোট পেয়ে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসন লাভ করতে পারে। এটি আইনত বৈধ হলেও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে একটি সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।

এই বাস্তবতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জনগণের পূর্ণ রাজনৈতিক সম্মতি এক বিষয় নয়। নির্বাচন সরকার গঠনের অধিকার দেয়, কিন্তু জনগণের সকল আকাঙ্ক্ষার একচ্ছত্র প্রতিনিধি হওয়ার নৈতিক অধিকার তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেয় না।

একটি রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন হতে হবে, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যদি নির্বাচনের পর বিস্মৃত হয়, তবে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে না। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কর্মসংস্থান…