ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সমালোচনার মুখে নারীবাদ: নতুন ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যতের সন্ধান

নারীবাদ নিজেও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। মূলধারার নারীবাদ প্রায়শই কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত নারীর অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় বলে অভিযোগ ওঠে, যা বর্ণবাদ, শ্রেণিভেদ বা লিঙ্গবৈচিত্র্যের মতো বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে। পোস্ট-ফেমিনিস্ট তাত্ত্বিকদের মতে, বর্তমান যুগে নারীরা এতটাই ক্ষমতায়িত যে আলাদা কোনো নারীবাদী আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, রক্ষণশীল সমাজ মনে করে নারীবাদ পারিবারিক কাঠামোকে ধ্বংস করছে। অনেক সময় পশ্চিমা নারীবাদকে ‘নব্য উপনিবেশবাদ’ হিসেবেও দেখা হয়, কারণ এটি তৃতীয় বিশ্বের নারীদের ‘বঞ্চিত’ বা ‘পিছিয়ে পড়া’ হিসেবে উপস্থাপন করে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

এর ফলে, কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী, মুসলিম ও দরিদ্র নারীদের কণ্ঠস্বর অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যায়। নারীবাদকে তাই কেবল নারীর অধিকার আদায়ের লড়াই হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রয়াস। সময়ের সাথে সাথে নারীবাদ বারবার রূপ বদল করেছে, প্রশ্ন তুলেছে এবং নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। এটি কেবল ইতিহাস নয়, ভবিষ্যতেরও সন্ধান দেয়—এমন একটি সমাজের যেখানে মানুষ হিসেবেই তার পরিচয়, লিঙ্গ নয়।

এই প্রেক্ষাপটে, নারীবাদী সাহিত্য সমালোচনার জগতে এলিন শোওয়াল্টারের অবদান অনস্বীকার্য। এই প্রখ্যাত মার্কিন নারীবাদী সাহিত্য সমালোচক নারীর অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে সাহিত্য বিশ্লেষণের এক নতুন ধারা প্রবর্তন করেন, যা ‘Gynocriticism’ নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে নারীদের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা, ভাষা, মানসিক গঠন এবং সমাজে তাদের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের লেখা বিশ্লেষণ করা হয়। শোওয়াল্টার মনে করেন, পুরুষতান্ত্রিক সাহিত্য সমালোচনা নারী লেখার প্রকৃত মান বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাই নারী লেখকদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের আলোকে মূল্যায়ন করাই Gynocriticism-এর মূল উদ্দেশ্য।

শোওয়াল্টারের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘A Literature of Their Own’ (১৯৭৭)-এ তিনি ব্রিটিশ নারী ঔপন্যাসিকদের সাহিত্যিক অগ্রগতিকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন: Feminine, Feminist এবং Female Phase। ‘Feminine’ পর্বে নারীরা পুরুষদের লেখনীর কাঠামো অনুকরণ করতেন, ‘Feminist’ পর্বে তারা পুরুষতান্ত্রিক লেখার বিরোধিতা করতেন এবং ‘Female’ পর্বে নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভাষায় স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে শুরু করেন। এই কাঠামোটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নারীবাদী সাহিত্য বিশ্লেষণে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

শোওয়াল্টারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘The Female Malady’ (১৯৮৫)-এ তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে উদ্বেগ

সমালোচনার মুখে নারীবাদ: নতুন ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যতের সন্ধান

আপডেট সময় : ১২:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

নারীবাদ নিজেও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। মূলধারার নারীবাদ প্রায়শই কেবল শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত নারীর অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় বলে অভিযোগ ওঠে, যা বর্ণবাদ, শ্রেণিভেদ বা লিঙ্গবৈচিত্র্যের মতো বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে। পোস্ট-ফেমিনিস্ট তাত্ত্বিকদের মতে, বর্তমান যুগে নারীরা এতটাই ক্ষমতায়িত যে আলাদা কোনো নারীবাদী আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, রক্ষণশীল সমাজ মনে করে নারীবাদ পারিবারিক কাঠামোকে ধ্বংস করছে। অনেক সময় পশ্চিমা নারীবাদকে ‘নব্য উপনিবেশবাদ’ হিসেবেও দেখা হয়, কারণ এটি তৃতীয় বিশ্বের নারীদের ‘বঞ্চিত’ বা ‘পিছিয়ে পড়া’ হিসেবে উপস্থাপন করে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

এর ফলে, কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী, মুসলিম ও দরিদ্র নারীদের কণ্ঠস্বর অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যায়। নারীবাদকে তাই কেবল নারীর অধিকার আদায়ের লড়াই হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রয়াস। সময়ের সাথে সাথে নারীবাদ বারবার রূপ বদল করেছে, প্রশ্ন তুলেছে এবং নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। এটি কেবল ইতিহাস নয়, ভবিষ্যতেরও সন্ধান দেয়—এমন একটি সমাজের যেখানে মানুষ হিসেবেই তার পরিচয়, লিঙ্গ নয়।

এই প্রেক্ষাপটে, নারীবাদী সাহিত্য সমালোচনার জগতে এলিন শোওয়াল্টারের অবদান অনস্বীকার্য। এই প্রখ্যাত মার্কিন নারীবাদী সাহিত্য সমালোচক নারীর অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে সাহিত্য বিশ্লেষণের এক নতুন ধারা প্রবর্তন করেন, যা ‘Gynocriticism’ নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে নারীদের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা, ভাষা, মানসিক গঠন এবং সমাজে তাদের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের লেখা বিশ্লেষণ করা হয়। শোওয়াল্টার মনে করেন, পুরুষতান্ত্রিক সাহিত্য সমালোচনা নারী লেখার প্রকৃত মান বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাই নারী লেখকদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের আলোকে মূল্যায়ন করাই Gynocriticism-এর মূল উদ্দেশ্য।

শোওয়াল্টারের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘A Literature of Their Own’ (১৯৭৭)-এ তিনি ব্রিটিশ নারী ঔপন্যাসিকদের সাহিত্যিক অগ্রগতিকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন: Feminine, Feminist এবং Female Phase। ‘Feminine’ পর্বে নারীরা পুরুষদের লেখনীর কাঠামো অনুকরণ করতেন, ‘Feminist’ পর্বে তারা পুরুষতান্ত্রিক লেখার বিরোধিতা করতেন এবং ‘Female’ পর্বে নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভাষায় স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে শুরু করেন। এই কাঠামোটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নারীবাদী সাহিত্য বিশ্লেষণে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

শোওয়াল্টারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘The Female Malady’ (১৯৮৫)-এ তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে…