ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন অচল, রোগীরা চরম ভোগান্তিতে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দেড় বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিন বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। এই অকার্যকর মেশিনটির কারণে হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কারণ মেডিকেল টেকনিশিয়ান (রেডিওলজি) পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।

১৯৮৫ সালে জাপানে তৈরি একোমা-১০০ মডেলের এনালগ এক্স-রে মেশিনটি হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছিল। প্রথমদিকে এটি সচল থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি বারবার বিকল হতে থাকে। মেরামতের মাধ্যমে কোনোভাবে চালু রাখা হলেও গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে। একই সময়ে মেডিকেল টেকনিশিয়ান (রেডিওলজি) পদটিও শূন্য হয়ে যায়। দীর্ঘদিনেও পদটি পূরণ না হওয়ায় এবং মেশিনটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ না থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে।

ফলে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে না পেরে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের বাড়তি ভোগান্তি এবং অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ভুক্তভোগী অনেক রোগী জানিয়েছেন যে সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে বাইরে গিয়ে বেশি টাকা খরচ করে এক্স-রে করাতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মারুফ হাসান বলেন, “আমাদের এখানে কোনো আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নেই। পুরোনো এনালগ মেশিনটি অকেজো হয়ে গেছে এবং রেডিওলজি টেকনিশিয়ানের পদটিও শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চেষ্টা চলছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা: নিহত ৮

গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন অচল, রোগীরা চরম ভোগান্তিতে

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দেড় বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিন বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। এই অকার্যকর মেশিনটির কারণে হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কারণ মেডিকেল টেকনিশিয়ান (রেডিওলজি) পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।

১৯৮৫ সালে জাপানে তৈরি একোমা-১০০ মডেলের এনালগ এক্স-রে মেশিনটি হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছিল। প্রথমদিকে এটি সচল থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি বারবার বিকল হতে থাকে। মেরামতের মাধ্যমে কোনোভাবে চালু রাখা হলেও গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে। একই সময়ে মেডিকেল টেকনিশিয়ান (রেডিওলজি) পদটিও শূন্য হয়ে যায়। দীর্ঘদিনেও পদটি পূরণ না হওয়ায় এবং মেশিনটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ না থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে।

ফলে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে না পেরে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের বাড়তি ভোগান্তি এবং অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ভুক্তভোগী অনেক রোগী জানিয়েছেন যে সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে বাইরে গিয়ে বেশি টাকা খরচ করে এক্স-রে করাতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মারুফ হাসান বলেন, “আমাদের এখানে কোনো আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নেই। পুরোনো এনালগ মেশিনটি অকেজো হয়ে গেছে এবং রেডিওলজি টেকনিশিয়ানের পদটিও শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চেষ্টা চলছে।”