ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: আট মাস ধরে চাপা তদন্ত রিপোর্ট, ভারত ও প্রধানমন্ত্রীর যোগসাজশের অভিযোগ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত এবং ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ এবং একটি সমান্তরাল কমান্ড কাঠামো তৈরির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তবে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর তদন্ত কমিশনের ২১১ পৃষ্ঠার রিপোর্ট জমা দেওয়ার আট মাস অতিবাহিত হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও দায়ের হয়নি। সরকারের এই রহস্যজনক নীরবতায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র জানায়, গত বছর ৩০ নভেম্বর মেজর জেনারেল (অব.) এএলএম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই রিপোর্ট জমা দেয়। কমিশন প্রধান তখন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, রিপোর্টটি ‘আনক্লাসিফায়েড’ এবং সরকার এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারে। ড. ইউনূসও আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটবে। কিন্তু দীর্ঘ আট মাস পরও এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে সরকারিভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ এবং একটি সমান্তরাল কমান্ড কাঠামো তৈরির ভয়াবহ চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ১১৪ কর্মদিবস ধরে পরিচালিত এই তদন্তে ৩০০-এর বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য, বেঁচে থাকা সেনা কর্মকর্তা, কারাবন্দি বিডিআর সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক। তদন্তের স্বার্থে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং ছয়টি দেশের দূতাবাসসহ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কাছে তথ্য চাওয়া হয়। ভারতের সম্পৃক্ততা নিয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছিল।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ৭০টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছিল, কিন্তু আজ পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। পাশাপাশি, রিপোর্ট প্রকাশের কোনো উদ্যোগ না নেওয়া এবং বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তদন্ত কমিশন সূত্র জানায়, ১৬ বছর আগের ঘটনার অনেক আলামত নষ্ট হয়ে গেছে…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, হবিগঞ্জে ১৪৪ দ্বারা জারি

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: আট মাস ধরে চাপা তদন্ত রিপোর্ট, ভারত ও প্রধানমন্ত্রীর যোগসাজশের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত এবং ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ এবং একটি সমান্তরাল কমান্ড কাঠামো তৈরির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তবে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর তদন্ত কমিশনের ২১১ পৃষ্ঠার রিপোর্ট জমা দেওয়ার আট মাস অতিবাহিত হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও দায়ের হয়নি। সরকারের এই রহস্যজনক নীরবতায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র জানায়, গত বছর ৩০ নভেম্বর মেজর জেনারেল (অব.) এএলএম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই রিপোর্ট জমা দেয়। কমিশন প্রধান তখন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, রিপোর্টটি ‘আনক্লাসিফায়েড’ এবং সরকার এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারে। ড. ইউনূসও আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটবে। কিন্তু দীর্ঘ আট মাস পরও এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে সরকারিভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ এবং একটি সমান্তরাল কমান্ড কাঠামো তৈরির ভয়াবহ চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ১১৪ কর্মদিবস ধরে পরিচালিত এই তদন্তে ৩০০-এর বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য, বেঁচে থাকা সেনা কর্মকর্তা, কারাবন্দি বিডিআর সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক। তদন্তের স্বার্থে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং ছয়টি দেশের দূতাবাসসহ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কাছে তথ্য চাওয়া হয়। ভারতের সম্পৃক্ততা নিয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছিল।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ৭০টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছিল, কিন্তু আজ পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। পাশাপাশি, রিপোর্ট প্রকাশের কোনো উদ্যোগ না নেওয়া এবং বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তদন্ত কমিশন সূত্র জানায়, ১৬ বছর আগের ঘটনার অনেক আলামত নষ্ট হয়ে গেছে…