ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জে এনসিপি-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয় যে, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি বিক্ষোভ সমাবেশ ও পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অপরদিকে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল একই সময়ে ও একই স্থানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর ফলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা, অবস্থান কর্মসূচি, পিকেটিং, মাইকিং, স্লোগান দেওয়া এবং উচ্চ শব্দে প্রচারণাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে এমন সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এনসিপির শীর্ষ দুই নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় এনসিপি নেতাকর্মীদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহতদের মধ্যে এনসিপির ভিডিওগ্রাফার ইউসুফ আহমেদ, মিডিয়া সেলের আরাফাত সানি, গাড়িচালক আসলাম হোসাইন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ, ভিডিও এডিটর শাহরিয়ারও রয়েছেন। এনসিপির কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার সময় সার্কিট হাউসের ভেতরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাটহাজারীতে চলন্ত গাড়িতে গুলিবর্ষণ, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ব্যবসায়ী

হবিগঞ্জে এনসিপি-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

আপডেট সময় : ১২:০৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয় যে, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি বিক্ষোভ সমাবেশ ও পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অপরদিকে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল একই সময়ে ও একই স্থানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর ফলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা, অবস্থান কর্মসূচি, পিকেটিং, মাইকিং, স্লোগান দেওয়া এবং উচ্চ শব্দে প্রচারণাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে এমন সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এনসিপির শীর্ষ দুই নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় এনসিপি নেতাকর্মীদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহতদের মধ্যে এনসিপির ভিডিওগ্রাফার ইউসুফ আহমেদ, মিডিয়া সেলের আরাফাত সানি, গাড়িচালক আসলাম হোসাইন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ, ভিডিও এডিটর শাহরিয়ারও রয়েছেন। এনসিপির কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার সময় সার্কিট হাউসের ভেতরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছিল।