রাষ্ট্রক্ষমতার বিন্যাস নিয়ে রাজনৈতিক দর্শনের আলোচনা বহু পুরনো। অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে মন্তেস্কু পর্যন্ত দার্শনিকরা ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও ভারসাম্যপূর্ণ শাসনের ওপর জোর দিয়ে গেছেন। লর্ড অ্যাক্টনের সেই বিখ্যাত উক্তি—‘ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে, আর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা করে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিগ্রস্ত’—আজও প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে এমনিতেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। এই আবহে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির প্রকৃত অবস্থান কী হওয়া উচিত, সেই মৌলিক প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ছিল ২০২৮ সাল পর্যন্ত। প্রায় দুই বছর বাকি থাকতে, স্বাস্থ্যগত ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার সরে দাঁড়ানো এমন একসময়ে ঘটল, যখন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের প্রশ্নটি এমনিতেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সংবিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। স্পিকার এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং আগামী সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। এই ক্ষণটি তাই কেবল একটি প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির প্রকৃত অবস্থান কী হওয়া উচিত, সেই মৌলিক প্রশ্নে ফিরে তাকানোর একটি সুযোগ।
রিপোর্টারের নাম 






















