ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনোত্তর বাজেট ভাবনা: অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামোয় কতটা পরিবর্তন আনবে নতুন সরকার?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চলেছে নতুন সরকার। এমন এক সময়ে, যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) বাজেট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও, বর্তমান বাজেট কাঠামোয় কতটা পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

নির্বাচনে বিজয়ী হতে রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে যেমন চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি। সাধারণত বাজেট ঘোষণার মাধ্যমেই সরকার তার দেওয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করে। তবে, আসন্ন নির্বাচনের পর গঠিতব্য সরকার কি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত বাজেটই বহাল রাখবে, নাকি তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সীমিত।

ক্ষমতায় গেলে রমজান মাসে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের দাম রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে। প্রয়োজনে পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের কথাও ভাবা হচ্ছে। রমজান মাস ছাড়াও অন্যান্য সময়েও যাতে পণ্যের দাম সহনীয় অবস্থায় থাকে, সে বিষয়ে উদ্যোগ থাকবে বলে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কোনো পর্যালোচনা করেনি। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, জনগণের সমর্থন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারলে নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়া মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে, নতুন সরকারের পক্ষে চলতি অর্থবছরের বাজেট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সহজ হবে না বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সদস্য। তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের পাঁচ মাসেরও কম সময় বাকি আছে। এ সময়ে বড় পরিবর্তন আনতে গেলেও সময় প্রয়োজন, যা চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা কঠিন। সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকেই পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। সেক্ষেত্রে চলতি বাজেটে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এনবিআর কর্মকর্তা আরও জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) থাকা প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন কিংবা কিছু কর্মসূচি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টি নতুন সরকার বিবেচনা করতে পারে।

প্রসঙ্গত, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ চলতি অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে এডিপির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা পরিচালন আবর্তক ব্যয়, পরিচালন মূলধন ও অন্যান্য ব্যয় হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে আকার ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। অপরদিকে, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা এবং এডিপির আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ অনেকটাই পিষ্ট। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির এ হার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বেশিরভাগেই তা ৫ শতাংশের নিচে। ২০২৫ সালে মালদ্বীপে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ৪ শতাংশ এবং ভারতে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে ভুটান ও নেপালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় মাত্র দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষা উপকরণের দাম কমানোর বিষয়েও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা বলেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এক্ষেত্রে শিক্ষা খাতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম স্বাস্থ্য খাত নিয়েও বিএনপির বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বাজেটে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রত্যেক পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে দলটির, যা নির্বাচনে বিজয়ী হলে আগামী বাজেটে বাস্তবায়নের উদ্যোগ থাকবে। চলতি অর্থবছরে এ খাতেও বেশকিছু পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা রয়েছে বিএনপির।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের বিষয়টি কতটা কার্যকর সম্ভব, তা নিয়ে এনবিআরের নীতি শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার প্রয়োজনে যেকোনো পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমাতে পারে। তবে শুধু শুল্ক কমালেই হবে না, রাজস্ব আয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে শুধু দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করলে হবে না, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শুল্কহার কমালে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমবে। কিন্তু রাজস্ব আয় কমলে সরকারের ব্যয় মেটানো দুরূহ হয়ে পড়বে। বর্তমানে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, সেটি অর্জন করা খুবই কঠিন। এর মধ্যে শুধু শুল্ক কমানোর চিন্তা করলে সরকারের পক্ষে রাষ্ট্র চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, নতুন সরকারের আমলে পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বড় ধরনের চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের আয় বাড়ানোর বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। যদি আয় না বাড়ে, তাহলে সরকারকে ঋণ করতে হবে। বর্তমানে এমনিতেই বড় ঋণের বোঝা রয়েছে। নতুন করে ঋণ নিতে গেলে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হবে। এছাড়া, চলতি বছর এলডিসি উত্তরণের ফলেও অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ণে নতুন সরকারের জন্য বড় ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

নির্বাচনোত্তর বাজেট ভাবনা: অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামোয় কতটা পরিবর্তন আনবে নতুন সরকার?

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চলেছে নতুন সরকার। এমন এক সময়ে, যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) বাজেট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও, বর্তমান বাজেট কাঠামোয় কতটা পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

নির্বাচনে বিজয়ী হতে রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে যেমন চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি। সাধারণত বাজেট ঘোষণার মাধ্যমেই সরকার তার দেওয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করে। তবে, আসন্ন নির্বাচনের পর গঠিতব্য সরকার কি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত বাজেটই বহাল রাখবে, নাকি তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সীমিত।

ক্ষমতায় গেলে রমজান মাসে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের দাম রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে। প্রয়োজনে পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের কথাও ভাবা হচ্ছে। রমজান মাস ছাড়াও অন্যান্য সময়েও যাতে পণ্যের দাম সহনীয় অবস্থায় থাকে, সে বিষয়ে উদ্যোগ থাকবে বলে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কোনো পর্যালোচনা করেনি। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, জনগণের সমর্থন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারলে নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়া মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে, নতুন সরকারের পক্ষে চলতি অর্থবছরের বাজেট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সহজ হবে না বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সদস্য। তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের পাঁচ মাসেরও কম সময় বাকি আছে। এ সময়ে বড় পরিবর্তন আনতে গেলেও সময় প্রয়োজন, যা চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা কঠিন। সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকেই পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। সেক্ষেত্রে চলতি বাজেটে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এনবিআর কর্মকর্তা আরও জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) থাকা প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন কিংবা কিছু কর্মসূচি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টি নতুন সরকার বিবেচনা করতে পারে।

প্রসঙ্গত, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ চলতি অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে এডিপির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা পরিচালন আবর্তক ব্যয়, পরিচালন মূলধন ও অন্যান্য ব্যয় হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে আকার ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। অপরদিকে, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা এবং এডিপির আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ অনেকটাই পিষ্ট। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির এ হার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বেশিরভাগেই তা ৫ শতাংশের নিচে। ২০২৫ সালে মালদ্বীপে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ৪ শতাংশ এবং ভারতে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে ভুটান ও নেপালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় মাত্র দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষা উপকরণের দাম কমানোর বিষয়েও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা বলেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এক্ষেত্রে শিক্ষা খাতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম স্বাস্থ্য খাত নিয়েও বিএনপির বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বাজেটে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রত্যেক পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে দলটির, যা নির্বাচনে বিজয়ী হলে আগামী বাজেটে বাস্তবায়নের উদ্যোগ থাকবে। চলতি অর্থবছরে এ খাতেও বেশকিছু পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা রয়েছে বিএনপির।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের বিষয়টি কতটা কার্যকর সম্ভব, তা নিয়ে এনবিআরের নীতি শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার প্রয়োজনে যেকোনো পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমাতে পারে। তবে শুধু শুল্ক কমালেই হবে না, রাজস্ব আয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে শুধু দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করলে হবে না, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শুল্কহার কমালে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমবে। কিন্তু রাজস্ব আয় কমলে সরকারের ব্যয় মেটানো দুরূহ হয়ে পড়বে। বর্তমানে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, সেটি অর্জন করা খুবই কঠিন। এর মধ্যে শুধু শুল্ক কমানোর চিন্তা করলে সরকারের পক্ষে রাষ্ট্র চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, নতুন সরকারের আমলে পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বড় ধরনের চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের আয় বাড়ানোর বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। যদি আয় না বাড়ে, তাহলে সরকারকে ঋণ করতে হবে। বর্তমানে এমনিতেই বড় ঋণের বোঝা রয়েছে। নতুন করে ঋণ নিতে গেলে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হবে। এছাড়া, চলতি বছর এলডিসি উত্তরণের ফলেও অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ণে নতুন সরকারের জন্য বড় ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।