ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ, রুপা ও তেলের দামে বড় ধস: এক দিনেই রুপার দরপতন ১৫ শতাংশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ, রুপা, অপরিশোধিত তেল ও তামাসহ প্রধান প্রধান পণ্যসামগ্রীর দামে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের মূল্যে আকস্মিক এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন এবং বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন মেরুকরণের প্রভাবেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এসব ধাতুর বাজারদর দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুপার বাজার। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে রুপার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল। একই সময়ে স্বর্ণ, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং তামার দাম গড়ে প্রায় দুই শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগের ফলে বিশ্বজুড়ে যে স্বস্তির আভাস মিলেছে, তার প্রভাবেই বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি নিরাপদ সম্পদ থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এই দরপতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অধিকাংশ পণ্যের লেনদেন ডলারে হওয়ায় এই মুদ্রার মান বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য পণ্য কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বর্তমানে ডলার সূচক গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও তেলের চাহিদা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহজুড়ে মূল্যবান ধাতু ও কাঁচামালের বাজারে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ঝুঁকি কমেছে। এর ফলে তেলের বাজারে বাড়তি দামের যে চাপ ছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর দুই পরাশক্তির বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে হিসাব কষতে শুরু করেছেন।

জ্বালানি তেলের বাজারে এই পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা কমে আসায় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, লন্ডনের মেটাল এক্সচেঞ্জে তামার মজুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই ধাতুর দামেও মন্দা দেখা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক কৌশলবিদদের মতে, বাজারে তারল্য সংকট থাকায় একটি খাতের বিক্রির চাপ দ্রুত অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে মূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিভিন্ন আঞ্চলিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

তবে বিশ্ববাজারের এই সামগ্রিক মন্দার মধ্যেও ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে সয়াবিনের ক্ষেত্রে। চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির পরিমাণ বাড়াতে পারে—এমন গুঞ্জনে পণ্যটির দাম বেড়ে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিপরীতে, অতিরিক্ত মজুতের চাপে লৌহ আকরিকের দাম দুই শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব পণ্যবাজারে এখন এক ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ, রুপা ও তেলের দামে বড় ধস: এক দিনেই রুপার দরপতন ১৫ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ, রুপা, অপরিশোধিত তেল ও তামাসহ প্রধান প্রধান পণ্যসামগ্রীর দামে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের মূল্যে আকস্মিক এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন এবং বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন মেরুকরণের প্রভাবেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এসব ধাতুর বাজারদর দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুপার বাজার। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে রুপার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল। একই সময়ে স্বর্ণ, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং তামার দাম গড়ে প্রায় দুই শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগের ফলে বিশ্বজুড়ে যে স্বস্তির আভাস মিলেছে, তার প্রভাবেই বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি নিরাপদ সম্পদ থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এই দরপতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অধিকাংশ পণ্যের লেনদেন ডলারে হওয়ায় এই মুদ্রার মান বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য পণ্য কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বর্তমানে ডলার সূচক গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও তেলের চাহিদা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহজুড়ে মূল্যবান ধাতু ও কাঁচামালের বাজারে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ঝুঁকি কমেছে। এর ফলে তেলের বাজারে বাড়তি দামের যে চাপ ছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর দুই পরাশক্তির বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে হিসাব কষতে শুরু করেছেন।

জ্বালানি তেলের বাজারে এই পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা কমে আসায় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, লন্ডনের মেটাল এক্সচেঞ্জে তামার মজুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই ধাতুর দামেও মন্দা দেখা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক কৌশলবিদদের মতে, বাজারে তারল্য সংকট থাকায় একটি খাতের বিক্রির চাপ দ্রুত অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে মূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিভিন্ন আঞ্চলিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

তবে বিশ্ববাজারের এই সামগ্রিক মন্দার মধ্যেও ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে সয়াবিনের ক্ষেত্রে। চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির পরিমাণ বাড়াতে পারে—এমন গুঞ্জনে পণ্যটির দাম বেড়ে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিপরীতে, অতিরিক্ত মজুতের চাপে লৌহ আকরিকের দাম দুই শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব পণ্যবাজারে এখন এক ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।