ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের ‘প্রেসক্রিপশনে’ রাজনীতি করছে বড় দল, অভিযোগ ডাকসু ভিপির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং তাদের শীর্ষ নেতা ভারতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজনীতি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হলে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই দলের শীর্ষ নেতা একবার “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ’ আয়োজিত “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে এক গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক কায়েম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যখন দেশজুড়ে শহীদদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে, তখন “না” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদী শক্তি। নব্য ফ্যাসিবাদী, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকারী এবং আধিপত্যবাদীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি ভারতীয় দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করে জিএম কাদের ও জাতীয় পার্টির “না” ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সাদিক কায়েম বলেন, যদিও নেতা একবার “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে বলেছিলেন, কিন্তু দলের কর্মীরা গ্রামেগঞ্জে “না” ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে শহীদ শরীফ উসমান, হাদী, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, শান্তদের আদর্শ ধারণ করতে হবে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে যারা প্রচার চালাচ্ছেন, তাদের যেন বাধা না দেওয়া হয়। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছে।

সাদিক কায়েম দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, নারীদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নারীদের ওপর আবারও হামলা করার চেষ্টা করা হলে জীবন দিয়ে হলেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি ২০০৮ সালের মতো নির্বাচন প্রকৌশলের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখা ব্যক্তিদের দুঃসাহস না দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ছাত্র-জনতা তাদের পাশে থাকবে।

গণজমায়েতে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ” গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, যখন তারা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তখন একটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রতিপক্ষ মনে করছে। তিনি সবাইকে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, তারা বাংলাদেশকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সবাইকে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সমর্থন আদায়ের আহ্বান জানান।

জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়েছেন। তারা আগামীতে নতুন ফ্যাসিবাদী শাসন দেখতে চান না। তিনি পাথর দিয়ে মানুষ মারা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চান। তিনি “নতুন জাতির আব্বা” নামক ধারণার বিরোধিতা করেন এবং বলেন, আগামীতে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে যেন শত শত কোটি টাকা লুটপাট না হয়। তাই তিনি “নতুন জাতির আব্বা” দেখতে না চাইলে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা একটি দলের প্রধানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। কিন্তু তিনি শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে দাঁড়িয়ে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন যে তারা গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচার করেছেন এবং চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি আগামীতে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসক দেখতে চান না এবং সবাইকে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন একা তৈরি হয় না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এর পেছনে সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর তারা আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন দেখতে চান না। তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে ভিন্নমত পোষণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আগামীতে কোনো একক ব্যক্তির শাসনে নিষ্পেষিত হবে না। তিনি সবাইকে প্রতিটি ঘরে ঘরে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তারসহ ডাকসু, জাকসু, জকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট গণনায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ৫০ আসনে জামায়াতকে হারানো হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

ভারতের ‘প্রেসক্রিপশনে’ রাজনীতি করছে বড় দল, অভিযোগ ডাকসু ভিপির

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং তাদের শীর্ষ নেতা ভারতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজনীতি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হলে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই দলের শীর্ষ নেতা একবার “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ’ আয়োজিত “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে এক গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক কায়েম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যখন দেশজুড়ে শহীদদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে, তখন “না” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদী শক্তি। নব্য ফ্যাসিবাদী, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকারী এবং আধিপত্যবাদীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি ভারতীয় দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করে জিএম কাদের ও জাতীয় পার্টির “না” ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সাদিক কায়েম বলেন, যদিও নেতা একবার “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে বলেছিলেন, কিন্তু দলের কর্মীরা গ্রামেগঞ্জে “না” ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে শহীদ শরীফ উসমান, হাদী, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, শান্তদের আদর্শ ধারণ করতে হবে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে যারা প্রচার চালাচ্ছেন, তাদের যেন বাধা না দেওয়া হয়। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছে।

সাদিক কায়েম দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, নারীদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নারীদের ওপর আবারও হামলা করার চেষ্টা করা হলে জীবন দিয়ে হলেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি ২০০৮ সালের মতো নির্বাচন প্রকৌশলের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখা ব্যক্তিদের দুঃসাহস না দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ছাত্র-জনতা তাদের পাশে থাকবে।

গণজমায়েতে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ” গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, যখন তারা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তখন একটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রতিপক্ষ মনে করছে। তিনি সবাইকে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, তারা বাংলাদেশকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সবাইকে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সমর্থন আদায়ের আহ্বান জানান।

জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়েছেন। তারা আগামীতে নতুন ফ্যাসিবাদী শাসন দেখতে চান না। তিনি পাথর দিয়ে মানুষ মারা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চান। তিনি “নতুন জাতির আব্বা” নামক ধারণার বিরোধিতা করেন এবং বলেন, আগামীতে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে যেন শত শত কোটি টাকা লুটপাট না হয়। তাই তিনি “নতুন জাতির আব্বা” দেখতে না চাইলে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা একটি দলের প্রধানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। কিন্তু তিনি শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে দাঁড়িয়ে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন যে তারা গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচার করেছেন এবং চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি আগামীতে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসক দেখতে চান না এবং সবাইকে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন একা তৈরি হয় না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এর পেছনে সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর তারা আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন দেখতে চান না। তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে ভিন্নমত পোষণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আগামীতে কোনো একক ব্যক্তির শাসনে নিষ্পেষিত হবে না। তিনি সবাইকে প্রতিটি ঘরে ঘরে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তারসহ ডাকসু, জাকসু, জকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।