মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:০৭ অপরাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: রমজানের পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা

  • হালনাগাদ সময় : ১০:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংকট কেবল বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন জাতীয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য খালাস করতে না পারায় দেশের সরবরাহব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কন্টেইনার ওঠানামা ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সীমিত হয়ে পড়ায় জেটি ও টার্মিনালগুলোতে ভয়াবহ পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছে। আমদানিকৃত কাঁচামাল ও নিত্যপণ্য সময়মতো খালাস করতে না পারায় আমদানিকারকদের অতিরিক্ত স্টোরেজ চার্জ বা ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানির এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলবে, যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের।

রমজানের প্রস্তুতির এই সময়ে বন্দরের এমন স্থবিরতা বাজার পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বহির্নোঙরে বর্তমানে ১২০টিরও বেশি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই সংখ্যা ৬০টির নিচে থাকে। এর মধ্যে অন্তত ৩৫টি জাহাজে রয়েছে রমজানের প্রধান ভোগ্যপণ্য যেমন—ছোলা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে এসব পণ্য খালাস করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে এবং পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

মূলত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর যৌথ আহ্বানে শুরুতে সীমিত সময়ের কর্মবিরতি পালন করা হলেও বর্তমানে তা অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের দাবি, দেশের লাভজনক একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এদিকে, গত সাত দিনে বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনারের সংখ্যা ৩৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দ্রুত এই অচলাবস্থার নিরসন না হলে দেশের শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে নিত্যপণ্যের বাজার। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রাসেল মিয়া

30 October 2026

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি: বিমানে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: রমজানের পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা

হালনাগাদ সময় : ১০:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংকট কেবল বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন জাতীয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য খালাস করতে না পারায় দেশের সরবরাহব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কন্টেইনার ওঠানামা ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সীমিত হয়ে পড়ায় জেটি ও টার্মিনালগুলোতে ভয়াবহ পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছে। আমদানিকৃত কাঁচামাল ও নিত্যপণ্য সময়মতো খালাস করতে না পারায় আমদানিকারকদের অতিরিক্ত স্টোরেজ চার্জ বা ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানির এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলবে, যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের।

রমজানের প্রস্তুতির এই সময়ে বন্দরের এমন স্থবিরতা বাজার পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বহির্নোঙরে বর্তমানে ১২০টিরও বেশি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই সংখ্যা ৬০টির নিচে থাকে। এর মধ্যে অন্তত ৩৫টি জাহাজে রয়েছে রমজানের প্রধান ভোগ্যপণ্য যেমন—ছোলা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে এসব পণ্য খালাস করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে এবং পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

মূলত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর যৌথ আহ্বানে শুরুতে সীমিত সময়ের কর্মবিরতি পালন করা হলেও বর্তমানে তা অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের দাবি, দেশের লাভজনক একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এদিকে, গত সাত দিনে বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনারের সংখ্যা ৩৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দ্রুত এই অচলাবস্থার নিরসন না হলে দেশের শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে নিত্যপণ্যের বাজার। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা।

Share this news as a Photo Card