জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত স্থানে শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে মঙ্গলবার রাতে তারা নিজেরাই ভিত্তিপূজার মাধ্যমে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’ উদ্বোধনের ঘোষণা দেন এবং সেখানেই অবস্থান নেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। এরপর শিক্ষার্থীরা দেবদেবীর ছবি ও পূজাসামগ্রী নিয়ে প্রস্তাবিত স্থানে যান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’ উদ্বোধনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তারা ওই স্থানে রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার ৭০০ হিন্দু শিক্ষার্থী থাকলেও কোনো কেন্দ্রীয় মন্দির নেই। এ বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও তারা কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো, মন্দির স্থাপনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত স্থানেই শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
হিসাববিজ্ঞান তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র দাস বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে মন্দির স্থাপনের যৌক্তিক দাবি জানিয়েছি। কিন্তু তারা নানা অজুহাতে সেখানে শেষ পর্যন্ত শৌচাগার তৈরির কাজ শুরু করেছে। সারাদিন আন্দোলন করেও সাড়া না পেয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপন করেছি।”
জবি শাখা শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল জানান, “বারবার স্মারকলিপি দেওয়ার পরও প্রশাসন জায়গা নেই বলে জানিয়েছে। পরে আমরা মুক্তমঞ্চের পাশের জায়গা দেখিয়ে দিলে সেখানে পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।”
ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের অবহিত না করেই টয়লেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ধর্মীয় অবমাননার শামিল। এ কারণেই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।”
জবি সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি সুমন কুমার দাস বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে মন্দির নির্মাণের অনুমতি চাই। তারা ব্যর্থ হলে আমরা নিজ উদ্যোগেই কার্যক্রম শুরু করব, আজ তারই সূচনা হলো।”
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা জানিয়েছেন জকসুর (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার প্যানেলের নির্বাচিত কয়েকজন সম্পাদক। জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ মন্তব্য করেন, “মন্দির স্থাপন কোনো বিলাসিতা নয়—এটি সাংবিধানিক অধিকার। প্রস্তাবিত জায়গায় ওয়াশরুম স্থাপনের সিদ্ধান্ত হিন্দু শিক্ষার্থীদের অনুভূতির প্রতি অবজ্ঞা।”
পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন বলেন, “বারবার স্মারকলিপি দিয়েও তারা কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি। উল্টো মন্দিরের জায়গায় টয়লেট নির্মাণ হিন্দুদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম এবং জকসু জিএস আব্দুল আলীম আরিফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























