ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হাদি হত্যায় জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় গড়িমসি এবং অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটি দেশীয় তদন্ত ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলাটিকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বারবার শুনানির তারিখ পেছানো হচ্ছে। আজ ছিল এই মামলার পঞ্চম শুনানি। আমরা জানতে চাই, আর কত দিনে তদন্ত শেষ হবে?”

মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি জানান, তদন্ত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছ থেকে গোপন রাখা হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষর নকল হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে কোনো নথিতে স্বাক্ষর করবেন না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

“শহীদ ওসমান হাদিকে গুলি করার ৫৩ দিন এবং হত্যার ৪৭ দিন পার হলেও এখনো প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়নি,” উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “বরং তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হত্যাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।” তিনি লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে বলেন, জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত চার দিন ধরে সব ধরনের চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তিনি যদি সত্যিই জনগণের সরকার হন, তাহলে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এত প্রতিবন্ধকতা কেন?”

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, শুধু ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসালেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো দলই ভারতীয় আধিপত্য, পররাষ্ট্রনীতি কিংবা প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান জানাচ্ছে না। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হলে এর দায় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার বিরুদ্ধেও তারা অবস্থান নেবে এবং এসব প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে জনগণকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানাবে।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাক-আফগান উত্তেজনা: আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইসহাক দারের ফোনালাপ

হাদি হত্যায় জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় গড়িমসি এবং অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটি দেশীয় তদন্ত ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলাটিকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বারবার শুনানির তারিখ পেছানো হচ্ছে। আজ ছিল এই মামলার পঞ্চম শুনানি। আমরা জানতে চাই, আর কত দিনে তদন্ত শেষ হবে?”

মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি জানান, তদন্ত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছ থেকে গোপন রাখা হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষর নকল হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে কোনো নথিতে স্বাক্ষর করবেন না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

“শহীদ ওসমান হাদিকে গুলি করার ৫৩ দিন এবং হত্যার ৪৭ দিন পার হলেও এখনো প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়নি,” উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “বরং তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হত্যাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।” তিনি লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে বলেন, জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত চার দিন ধরে সব ধরনের চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তিনি যদি সত্যিই জনগণের সরকার হন, তাহলে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এত প্রতিবন্ধকতা কেন?”

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, শুধু ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসালেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো দলই ভারতীয় আধিপত্য, পররাষ্ট্রনীতি কিংবা প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান জানাচ্ছে না। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হলে এর দায় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার বিরুদ্ধেও তারা অবস্থান নেবে এবং এসব প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে জনগণকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানাবে।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়।