ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফেনীতে দ্বিতীয় কারাগারের কার্যক্রম শুরু, প্রথম দিনে আসছে ১৮০ জন বন্দি

ফেনী জেলায় দ্বিতীয় কারাগার বা ফেনী কারাগার-২-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে আজ, শনিবার (১ নভেম্বর)। সকালে জেলার কারাগার-১ থেকে ২১ জন বন্দিকে স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন কারাগারের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেল সুপার মো. দিদারুল আলম ও জেলার ফেরদৌস মিয়া। এ সময় জেল কর্মকর্তারা বন্দিদের ফুল দিয়ে নতুন কারাগারে পাঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই কারাগারে চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ছয়টি জেলা কারাগার থেকে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন বন্দিদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। ফেনী কারাগার-১ থেকে ২১ জন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৬ জন, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৭৪ জন, নোয়াখালী কারাগার থেকে ১৫ জন, লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে ১১ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে ৩৩ জন বন্দিকে—অর্থাৎ মোট ১৮০ জন বন্দিকে ফেনী কারাগার-২-এ স্থানান্তর করা হচ্ছে।

জেল সুপার মো. দিদারুল আলম জানান, ছয়টি জেলা কারাগার থেকে মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৮০ জন বন্দিকে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফেনীর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে ২১ জনকে ফেনী কারাগার-১ থেকে আনা হয়েছে। বন্দিদের থাকার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, কারাগারের চারপাশের দেয়াল সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু করা ও কাঁটাতার লাগানোসহ কিছু কাজ রয়েছে যা বরাদ্দ পেলে সম্পন্ন করা হবে। বন্দিদের খাবার প্রস্তুতের জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রান্নার কাজে অভিজ্ঞ ২৪ জন বন্দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীতে আনা হয়েছে।

ফেনী কারাগার-২-এ মোট ১৯টি পদে ৮৮ জন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে জেল সুপারসহ ৭৩ জন নতুন কারাগারে যোগদান করেছেন।

উল্লেখ্য, ফেনীর প্রথম কারাগারটি ১৯১৫ সালে শহরের মাস্টারপাড়ায় দেড় একর জমির ওপর উপ-কারাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেটির বন্দি ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১৭২ জন। ১৯৯৮ সালে এটিকে জেলা কারাগারে উন্নীত করা হলেও এটিতে আধুনিক কোনো সুবিধা ছিল না। পরবর্তীকালে, ১৯৯৬ সালে শহরতলির কাজীরবাগ মৌজায় সাড়ে সাত একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ শুরু হয়। সেখানে মোট ২৮টি ভবন নির্মিত হয় এবং এর বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৫০ জন। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হয়েছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূসের বিদায় ও নতুন সরকারের আগমনে ভারতের স্বস্তি এবং প্রত্যাশার দোলাচল

ফেনীতে দ্বিতীয় কারাগারের কার্যক্রম শুরু, প্রথম দিনে আসছে ১৮০ জন বন্দি

আপডেট সময় : ০১:১৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

ফেনী জেলায় দ্বিতীয় কারাগার বা ফেনী কারাগার-২-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে আজ, শনিবার (১ নভেম্বর)। সকালে জেলার কারাগার-১ থেকে ২১ জন বন্দিকে স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন কারাগারের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেল সুপার মো. দিদারুল আলম ও জেলার ফেরদৌস মিয়া। এ সময় জেল কর্মকর্তারা বন্দিদের ফুল দিয়ে নতুন কারাগারে পাঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই কারাগারে চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ছয়টি জেলা কারাগার থেকে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন বন্দিদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। ফেনী কারাগার-১ থেকে ২১ জন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৬ জন, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৭৪ জন, নোয়াখালী কারাগার থেকে ১৫ জন, লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে ১১ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে ৩৩ জন বন্দিকে—অর্থাৎ মোট ১৮০ জন বন্দিকে ফেনী কারাগার-২-এ স্থানান্তর করা হচ্ছে।

জেল সুপার মো. দিদারুল আলম জানান, ছয়টি জেলা কারাগার থেকে মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৮০ জন বন্দিকে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফেনীর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে ২১ জনকে ফেনী কারাগার-১ থেকে আনা হয়েছে। বন্দিদের থাকার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, কারাগারের চারপাশের দেয়াল সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু করা ও কাঁটাতার লাগানোসহ কিছু কাজ রয়েছে যা বরাদ্দ পেলে সম্পন্ন করা হবে। বন্দিদের খাবার প্রস্তুতের জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রান্নার কাজে অভিজ্ঞ ২৪ জন বন্দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীতে আনা হয়েছে।

ফেনী কারাগার-২-এ মোট ১৯টি পদে ৮৮ জন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে জেল সুপারসহ ৭৩ জন নতুন কারাগারে যোগদান করেছেন।

উল্লেখ্য, ফেনীর প্রথম কারাগারটি ১৯১৫ সালে শহরের মাস্টারপাড়ায় দেড় একর জমির ওপর উপ-কারাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেটির বন্দি ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১৭২ জন। ১৯৯৮ সালে এটিকে জেলা কারাগারে উন্নীত করা হলেও এটিতে আধুনিক কোনো সুবিধা ছিল না। পরবর্তীকালে, ১৯৯৬ সালে শহরতলির কাজীরবাগ মৌজায় সাড়ে সাত একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ শুরু হয়। সেখানে মোট ২৮টি ভবন নির্মিত হয় এবং এর বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৫০ জন। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হয়েছিল।